রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রভাব নিম্নমুখী বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাড়ছে বন্ডের দাম – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রভাব নিম্নমুখী বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাড়ছে বন্ডের দাম

  • ২১/১১/২০২৪

দূরপাল্লার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কায় বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে পতন দেখা গেছে। কমে গেছে রুশ মুদ্রা রুবলের বিনিময় হারও। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত বন্ডের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে। খবর গার্ডিয়ান ও আনাদোলু এজেন্সি।
এর আগে আরবিসি-ইউক্রেন নিউজ জানায়, পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। এ খবর প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার থেকে স্থিতিশীল বিবেচনায় মার্কিন ডলার, জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারী।
এদিকে মস্কো জানিয়েছে, রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ছয়টি ‘অ্যাটাকমস’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেন। গত সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের শর্তাবলি সহজ করে পুতিন একটি ডিক্রি স্বাক্ষর করেছেন। সংশোধিত নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেকোনো পরমাণু শক্তিধর দেশের সমর্থনে রাশিয়ার ওপর প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে আক্রমণকে যৌথ আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এক হাজার দিন অতিক্রম করেছে। এতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে ইউরোপের পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অঞ্চলটির অন্যতম প্রধান পুঁজিবাজার স্টক্স৬০০ সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে আগস্টের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে।
ব্রিটেনের এফটিএসই১০০ সূচক গত মঙ্গলবার বিকালে দশমিক ৫ শতাংশ কমে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৮ হাজার ৭০ পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছে।
নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে। ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক দশমিক ৮ শতাংশ ও এসঅ্যান্ডপি৫০০ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে। ওয়াল স্ট্রিটের ফিয়ার ইনডেক্স হিসেবে পরিচিত সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
সিটি ইনডেক্স ও ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ‘ইউক্রেন কর্তৃক মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা বিচলিত হয়েছেন, যা ইউরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বড় উদ্বেগ হলো রাশিয়া কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নতুন পারমাণবিক নীতিমালা অনুমোদন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের শর্তগুলোকে সহজ করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার ভূখণ্ডে প্রচলিত বড় আকারের হামলার প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অচিন্তনীয়। কিন্তু আমরা খুব বিপজ্জনক পরিস্থিতির কাছাকাছি চলে যাচ্ছি।’
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পাউন্ডের বিনিময় হার ডলারের বিপরীতে এক-তৃতীয়াংশ সেন্ট কমে ১ ডলার ২৬ সেন্টে নেমেছে। ইউরোর বিনিময় হার সুইস ফ্রাঙ্ক ও ডলারের বিপরীতে দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের বিনিময় হার দশমিক ৮২ শতাংশ কমে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রতি ডলার ১০০ দশমিক ৫ রুবলে গিয়ে পৌঁছেছে, যা গত বছরের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।
জেফারিসের গ্লোবাল এফএক্সের প্রধান ব্র্যাড বেখটেল বলেন, ‘সরাসরি প্রভাব না ফেলা পর্যন্ত বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ভূরাজনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পায় না। কিন্তু এবারে মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালানো হয়েছে। আবার রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের সরকারি বন্ড নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে বন্ডের সুদহার বা ইল্ড কমেছে।
এদিকে বাল্টিক সাগরে দুটি আন্ডারসি কেবল রহস্যজনকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিনিয়োগকারীরা আরো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, ‘এ ঘটনায় নাশকতার সন্দেহ করা হচ্ছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের কারণে বাজারে যে উত্থান দেখা গিয়েছিল তা ম্লান হয়ে গেছে। তার উচ্চ শুল্কারোপ ও অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে নির্বাসনের প্রস্তাব কিছু শিল্পে বিঘ্ন ঘটাতে এবং পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us