আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম চলতি সপ্তাহে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পতনের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহারের কমানোর গতি কমিয়ে দিতে পারে, এমন সম্ভাবনায় ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুটির দাম কমছে।
গত শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৫৬৫ ডলার ৪৯ সেন্টে নেমে আসে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে ধাতুটির দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গত ১২ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্নে চলে গেছে। মার্কিন ফিউচার মার্কেটেও দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৫৭০ ডলার ১০ সেন্টে নেমে এসেছে।
এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে ডলারের বিনিয়ম হারে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারীদের জন্য স্বর্ণ আরো বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা ব্যয় বাড়ায় ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদাও কমে গেছে।
অ্যালিজিয়েন্স গোল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স এবকারিয়ান বলেন, ‘স্বর্ণের বাজারের সব অস্থিরতা, বিশেষত স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা এখন আর নেই। ধাতুটির দাম অর্থনীতির মৌলিক নিয়ামকগুলোর ভিত্তিতে আচরণ করছে।’
এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করবে, যা ফেডের সুদহার কমানোর প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। সাধারণত উচ্চ সুদহার বিরাজ করলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে আকর্ষণ হারান। কারণ এটি কোনো মুনাফা প্রদান করে না।
সম্প্রতি ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘সুদহার কমাতে তাদের তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই।’ এসএমই ফেওয়াচ টুলের তথ্য বলছে, এখন বাজারে ডিসেম্বরে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর ৬২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে, যা একদিন আগে ছিল ৮৩ শতাংশ। (খবরঃ বিজনেস রেকর্ডার)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন