রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে সুদহার কমাচ্ছে ফেড – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে সুদহার কমাচ্ছে ফেড

  • ০৪/১১/২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান নির্বাচনী উত্তেজনায় যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক অস্বস্তিকর কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা। এর মাঝে আরেক দফা সুদহার কাটছাঁটের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্টে বেঞ্চমার্ক সুদহার কমাতে পারে মার্কিন আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
৫ নভেম্বর কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাঝে একজনকে বেছে নিতে ভোট দেবেন মার্কিনরা। এর দুদিন পর ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি সুদহার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তখনো নির্বাচনী ফল চূড়ান্ত নাও হতে পারে। কভিড-১৯-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে মূল্যস্ফীতি বাধা হয়ে সামনে এলে ক্রমাগত সুদহার বাড়িয়ে ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যায় ফেড। প্রায় চার বছর পর গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবার সুদহার কমিয়ে আনা হয়। প্রথম দফায় দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্টে কমে। তবে এবার কমতে পারে দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্টে, যা সুদহারকে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নতুন পরিসরে কমিয়ে আনবে।
বোস্টন ফেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরিক রোজেনগ্রেনের মতে, এখনো বেঞ্চমার্ক সুদহার প্রকৃত অর্থে অনেক বেশি। ফেড অর্থনীতির গতিকে অত্যধিক মন্থর করতে চায় না। তাই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ধীরে ধীরে সুদহার কমানোর নীতিতে রয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রমাণও রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমার মাঝে মার্কিন অর্থনীতি দৃঢ়ভাবে বাড়ছে। কেননা শ্রমবাজার এখনো যথেষ্ট সবল এবং ভোক্তারা খরচ করে চলেছেন। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় জিডিপি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। জিডিপির হার দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা কমলেও অর্থনীতির স্থিতিশীল সম্প্রসারণকে নির্দেশ করছে।
অবশ্য অক্টোবরের চাকরির প্রতিবেদন খানিকটা অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্যানুসারে, ওই মাসে মাত্র ১২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের মেয়াদে সবচেয়ে হতাশাজনক মাস। ওই সময় দুটি ঘূর্ণিঝড় ও বোয়িংয়ের ধর্মঘটের মতো একাধিক ঘটনা শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করেছে।
অক্টোবরের শ্রমবাজার গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যার ইঙ্গিত দিলেও বেশির ভাগ বিশ্লেষকের ধারণা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ধারা আবার ফিরে আসবে। সেন্ট লুইস ফেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমস বুলার্ড বলেন, ‘মন্দার উদ্বেগ এখন নেই। এ পরিস্থিতিতে পলিসি রেট কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে ফেডারেল রিজার্ভ।’
কর্মকর্তারা এখন নির্ধারণের চেষ্টা করছেন যে কত দ্রুত একটি নিরপেক্ষ সুদহারে পৌঁছানো যায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর বা বাড়িয়ে তুলবে না। এতদিন মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশ লক্ষ্যে নামিয়ে আনতে সুদহার বাড়াচ্ছিল ফেড। এখন উল্লেখযোগ্যভাবে চাকরি না কমিয়ে সে লক্ষ্য অর্জনযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্য সূচক (পিসিই) ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসে। তবে ফেডের হিসাব অনুসারে, খাদ্য ও জ্বালানির মতো পণ্য বাদ দিলে কোর পিসিই ২ দশমিক ৭ শতাংশে উঠে আসে। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি কর্মকর্তারা ঋণের খরচ ধীরে ধীরে কমানোর প্রক্রিয়ায় সমর্থন করেছেন। ইঙ্গিত করেছেন যে সেপ্টেম্বরের অর্ধ-পয়েন্ট কাটের পুনরাবৃত্তির দরকার নেই। কিন্তু তারা নিজেদের পদক্ষেপ স্পষ্ট করেননি।
কানসাস সিটি ফেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট এস্টার জর্জের মতে, ফেড কর্মকর্তাদের মন্তব্য থেকে অনেকে ভাবছেন যে প্রতিটি মিটিংয়ের সুদহার কমবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে পরবর্তী কাট ৫০ বেসিস পয়েন্টে হবে।
এস্টার জর্জ সাবেক সহকর্মীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কও করে দেন। কারণ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, মূল্যস্ফীতির হার কমে এসেছে। কিন্তু এটি ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ঝুলে আছে এবং আমার কাছে উল্টো ঝুঁকিগুলো আরো লক্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে মনে হচ্ছে।’
এক সময়ে ফেডে কাজ করেছেন সেথ কার্পেন্টার। আর্থিক প্রতিষ্ঠান মরগান স্ট্যানলির এ অর্থনীতিবিদের মতে, মূল্যস্ফীতি এখন প্রথম বিবেচ্য বিষয়। মূল্যস্ফীতি যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে সুদহার কাঁটছাট এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির ডাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এখন ফেডের পরবর্তী সভা ও এর ভবিষ্যতের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কারণ উভয় প্রার্থীই ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোচ্ছেন, যা প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ও মূল্যস্ফীতির ওপর নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করবে।
রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো সুরক্ষামূলক বাণিজ্য নীতি প্রচার করেছেন। শুল্ক আরোপ, করপোরেট কর কমানো ও অভিবাসনে কঠোরতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার পরিকল্পনায়। তিনি ফেডের আর্থিক নীতিকে প্রভাবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ফেডের স্বাধীনতা বজায় রাখতেন চান। তিনি ধনীদের ওপর উচ্চ কর আরোপ করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুসারে, হ্যারিসের তুলনায় ট্রাম্পের পরিকল্পনা মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে, যা প্রবৃদ্ধির জন্যও বাধা। তবে কী নীতি প্রণীত হবে বা এর ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক প্রভাব কী হবে, তা মূলত কংগ্রেসের দুই কক্ষের ক্ষমতা ভাগাভাগির ওপর নির্ভর করে। (খবরঃ এফটি)।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us