বাংলাদেশকে বকেয়া অর্থ পরিশোধে সময় বেঁধে দিল আদানি – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশকে বকেয়া অর্থ পরিশোধে সময় বেঁধে দিল আদানি

  • ০৪/১১/২০২৪

এর আগে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) বকেয়া পরিশোধের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। তারা ১৭ কোটি ডলারের একটি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) দিতে বলেছিল, যা বকেয়া পরিশোধের নিশ্চয়তা দেবে।
বিদ্যুৎ বিক্রিবাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ পাবে ভারতীয় জায়ান্ট কোম্পানি আদানি গ্রুপ। বকেয়া বিল পরিশোধ না করার কারণে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেক নামিয়ে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ৭ নভেম্বরে মধ্যে বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ না নিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার আলিমেটাম দিয়েছে আদানি গ্রুপ। আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ বিপিডিবির কাছে বকেয়া প্রায় ৮৫ কোটি ডলার। কোম্পানিটির এক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) বকেয়া পরিশোধের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। তারা ১৭ কোটি ডলারের একটি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) দিতে বলেছিল, যা বকেয়া পরিশোধের নিশ্চয়তা দেবে।
তবে পিডিবি কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি ইস্যু করার চেষ্টা করলেও তা পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত পূরণ করেনি বলে সূত্রে জানা গেছে। ডলার সংকটের কারণে এমনটি ঘটেছে বলে জানানো হয়।
এতে আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে গত ৩১ অক্টোবর থেকে সরবরাহ কমিয়ে অর্ধেক করে দেয়। এতে বিদ্যুৎ সংকটে থাকা বাংলাদেশে লোডশেডিং আরো বেড়ে গেছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। যেখানে এই কেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট।
সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময়মতো বিল পরিশোধ করতে না পারায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। গত অক্টোবরে আদানি পাওয়ার প্রায় ৯ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে পূর্ববর্তী মাসগুলোতে মাসিক বিলের বিপরীতে ২–৫ কোটি ডলার দেয়া হয়েছে, যেখানে মাসিক বিলের পরিমাণ প্রায় ৯-১০ কোটি ডলার।
গড্ডা প্ল্যান্ট বাংলাদেশের জন্য প্রতি ইউনিট ১০-১২ টাকা হারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এই মূল্য ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কয়লার দামের সঙ্গে ওঠানামা করে।
আদানি পাওয়ার সরাসরি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সংস্থার সিনিয়র এক্সিকিউটিভরা এর আগে জানিয়েছেন, তারা সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী। সময়মতো অর্থ প্রদানে বিলম্ব এবং এর স্পষ্ট সমাধানের অভাব তাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। কারণ তাদের নিজেদের ঋণদাতাদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে বাংলাদেশে সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত গড্ডা প্ল্যান্টের বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করবে। কারণ বাংলাদেশই তাদের একমাত্র বিদ্যুৎ ক্রেতা। এরই মধ্যে আদানি পাওয়ার তাদের দুটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিট বন্ধ রাখছে। যেখান থেকে প্রতি মাসে ৯-১০ কোটি ডলারের বিল হিসাবে বার্ষিক আয় প্রায় ১১০ কোটি ডলার।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us