যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার গত মাসে কিছুটা স্থবিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। তবে এ সময় চাকরিতে শূন্যপদের সংখ্যা কমে ২০২১ সালের জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। অবশ্য শূন্যপদ কমলেও তা এখনো কভিড-১৯ মহামারীর আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝিতে মার্কিন শ্রম বিভাগের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে মার্কিন শ্রমবাজারে শূন্যপদ কমে ৭৪ লাখে নেমে আসে, যা আগস্টে ছিল ৭৯ লাখ। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, দুই মাসেই শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় একই থাকবে। তবে স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানি এবং ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি সংস্থাগুলোয় চাকরির শূন্যপদ কমে যাওয়ায় এ হ্রাস লক্ষ করা গেছে। মার্কিন শ্রম বিভাগ আরো জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশটির বিভিন্ন খাতে ছাঁটাইও বেড়েছে। অন্যদিকে চাকরি ছেড়ে দেয়া আমেরিকানদের সংখ্যা ৩১ লাখের নিচে নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন।
অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইকোনমিকসের গবেষক কার্ল ওয়েইনবার্গ ও রুবিলা ফারুকি বলেন, ‘কর্মীরা এখন আগের মতো আত্মবিশ্বাসী নন যে তারা চাকরি ছাড়লে সহজেই নতুন চাকরি পেয়ে যাবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে আকস্মিক বিপর্যয় বা আসন্ন মন্দার কোনো ইঙ্গিত নেই। শ্রমবাজারে স্থবিরতা রয়েছে ঠিকই, তবে এটি ভেঙে পড়ছে না।’
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২২ সালে শূন্যপদের সংখ্যা রেকর্ড ১ কোটি ২২ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এখন তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তা সত্ত্বেও প্রাক-মহামারীর তুলনায় বেশি রয়েছে। কভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিপর্যয়ে পড়ে মার্কিন অর্থনীতি। তবে পুনরুজ্জীবিত হতে বেশি সময় নেয়নি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট কর্মী সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছিল। ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফেডারেল রিজার্ভ ২০২২ ও ২০২৩ সালের মধ্যে ১১ বার সুদহার বাড়িয়েছে।
২০২২ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। বর্তমানে তা কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সুদহার বাড়ানোর পরও অর্থনীতি অভূতপূর্বভাবে স্থিতিশীল থেকেছে। অর্থনীতিবিদরা মন্দার আভাস দিলেও তা এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে ২০২১-২৩ সাল পর্যন্ত কর্মসংস্থান বাড়ার গতি কমেছে।
এদিকে ২০২১ সাল পরবর্তী সময়ের তুলনায় কম হলেও চলতি বছর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি বেড়েছে। গত নয় মাসে গড়ে দুই লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে মাসে গড়ে ৬ লাখ ৪ হাজার, ২০২২ সালে ৩ লাখ ৭৭ হাজার এবং গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখ ৫১ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছিল।
সেপ্টেম্বরে শ্রমবাজারে ২ লাখ ৫৪ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। মার্কিন শ্রম বিভাগের পূর্বাভাস, অক্টোবরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নতুন চাকরি অর্থনীতিতে যুক্ত হতে পারে। তবে হারিকেন হেলেন ও মিল্টন এবং বোয়িংয়ে ধর্মঘটের প্রভাবের কারণে এ সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে। ফ্যাক্টসেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে। (খবরঃ এপি)।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন