ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেবির কর্ণধারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর নতুন অভিযোগ – The Finance BD
 ঢাকা     শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেবির কর্ণধারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর নতুন অভিযোগ

  • ৩০/১০/২০২৪

ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছেন দেশটির বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সেবির কর্ণধার মাধবী পুরী বুচ আইসিআইসি ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান থাকাকালে তিনি অনিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে এ অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, মাধবী পুরী কার্যত নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গৌতম আদানির অর্থ রক্ষা করছেন। সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও রাহুলের অভিযোগ, তারা প্রশ্ন তুলছে না। কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, নতুন উদ্যোগের (স্টার্টআপ) জন্য সরকারি প্রকল্পের অর্থ পেয়েছে—এমন এক কোম্পাানির অংশীদার ছিলেন সেবির কর্ণধার মাধবী পুরী বুচ।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও পবন খেরার অভিযোগ, শিল্পমহল থেকেই খবর আসছে, মাধবী পুরী বিজেপি সরকারকে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করছেন। তাঁদের দাবি, একের পর এক ঘটনায় অভিযুক্ত মাধবী পুরী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর আশীর্বাদে এমন জায়গায় আছেন, যেখানে বসে তিনি প্রতিষ্ঠানের অধঃপতন ঘটাচ্ছেন। এর বিনিময়ে আদানি গোষ্ঠীকে সেবা দিচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদিঘনিষ্ঠ আগদানি গোষ্ঠীকে সব অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়ার পথ তৈরি করেছেন তিনি। রাহুল গান্ধী ও পবন খেরার দাবি, কেন্দ্র সরকারের স্টার্টআপ ইন্ডিয়া প্রকল্প থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ রুপি পেয়েছে প্রেডিবেল হেলথ নামের একটি কোম্পানি। এই কোম্পানিতে অংশীদারি ছিল মাধবী পুরীর। এভাবেই করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
দুই নেতার অভিযোগ, যা ভাবা হয়েছিল, মাধবী–কাণ্ডের গভীরতা তার চেয়ে বেশি। সরকার কেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সে প্রশ্নও তুলেছেন রাহুল। দুজনেরই বার্তা, যাঁদের হাতে মানুষের বিনিয়োগ রক্ষার ভার, তাঁরাই বড় বড় কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন। সেবির কর্ণধার মাধবী পুরী ও তাঁর স্বামীর আদানি শিল্পগোষ্ঠীতে অংশীদারি আছে বলে অভিযোগ তোলে হিনডেনবার্গ রিসার্চ। এ অভিযোগ ওঠার পর থেকে ভারতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এখানেই শেষ নয়, এরপর মাধবী পুরীর বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ ওঠে।
এরপর সবচেয়ে বড় অভিযোগ, মাধবী পুরী বাজার নিয়ন্ত্রকের পদে থেকে চীনের কোম্পানির নথিভুক্ত শেয়ারে ৩৬ দশমিক ৯ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছেন। তখন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তোলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কি তা জানেন? তার চেয়ে বড় কথা, চীন-ভারত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তিনি চীনের তহবিলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন, সেটা কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানেন? ভারতের বাইরে যে তিনি বিনিয়োগ করেছেন, এর তথ্য কি তিনি প্রকাশ করেছেন? জয়রাম রমেশের দাবি, এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, মাধবী পুরী স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়েছেন।
মাধবী পুরী ২০২২ সালের মার্চে সেবির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি সেবির নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রধান ছিলেন।
খবর : ইকোনমিক টাইমস

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us