বিশ্বজুড়ে ফ্যান্টাসি ফিকশন ধাঁচের লেখার চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। এর প্রভাব পড়েছে ‘হ্যারি পটার’খ্যাত যুক্তরাজ্যের ব্লুমসবারি পাবলিশিংয়ের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। বিখ্যাত এ প্রকাশনী সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের বিক্রিবাট্টা প্রত্যাশার তুলনায় এগিয়ে থাকবে।
হালে ব্লুমসবারির জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি ফিকশনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘সারাহ জে মাস’। মূলত তার বইগুলোর দুর্দান্ত কাটতির কারণে আলোচ্য অর্থবছরের প্রথমার্ধে (মার্চ-আগস্ট) ব্লুমসবারি পাবলিশিংয়ের আয় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। আয়ের এ বাড়বাড়ন্তের ফলেই চলতি অর্থবছর ব্যবসা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হবে বলে জানিয়েছে ব্লুমসবারি। ১৯৯৭ সালে জেকে রাউলিংয়ের ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ প্রকাশ করেছিল ব্লুমসবারি। এ সিরিজের বইগুলো বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। সেসব গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমার বৈশ্বিক আয় ৭৭০ কোটি ডলারেরও বেশি।
ব্লুমসবারি সর্বশেষ সারাহ জে মাসের ‘এ কোর্ট অব থর্নস অ্যান্ড রোজেস’ বা একোটার সিরিজের মাধ্যমে আরো বিস্তৃত পাঠককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। গত কয়েক বছর এ সিরিজের ১ কোটি ৩০ লাখ কপির বেশি বই বিক্রি হয়েছে। সিরিজটিতে মোট পাঁচটি কিস্তি প্রকাশ হয়েছে, বর্তমানে নতুন কিস্তির কাজ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্যান্টাসি ফিকশন ঘরানা এখন টিনএজার ও প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্লাটফর্ম।
ব্লুমসবারি পাবলিশিং চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ১৭ কোটি ৯৮ লাখ পাউন্ড বা ২৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার আয় করেছে। আয়ের এ অংক ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ের ১৩ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ব্লুমসবারি আশা করছে, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে কোম্পানির আয় দাঁড়াবে ৩১ কোটি ৯৩ লাখ পাউন্ড বা ৪২ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এছাড়া কর পরিশোধ পূর্ব মুনাফা গড়াতে পারে ৩ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ডে।
১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্লুমসবারি পাবলিশিং পিএলসির সদর দপ্তর লন্ডনের ব্লুমসবারিতে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির কার্যালয় রয়েছে নিউইয়র্ক, সিডনি, দোহা ও নয়াদিল্লিতে। তবে গত দুই দশকে ব্লুমসবারির আর্থিক অগ্রগতির পেছনে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে হ্যারি পটার সিরিজ। একই সময়ে একাধিক প্রকাশনাকে অধিগ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। (খবরঃ রয়টার্স)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন