যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হচ্ছে অর্থনীতি। অন্য ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে -স্বাস্থ্যসেবা, মধ্যপ্রাচ্য নীতি, গর্ভপাত এবং গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি। ভোটাররা মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। মজুরি বৈষম্য এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে কর নীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ধনী ব্যক্তি এবং বড় কর্পোরেশনগুলোর ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে, যেখানে রিপাবলিকানরা করছাড় ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চান।
ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা সরকারি হস্তক্ষেপ বাড়ানোর পক্ষে, যেখানে রিপাবলিকানরা বাজার-নির্ভর সমাধানের পক্ষে কথা বলছেন। সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ধরনের আলোচনা চলছে। ডেমোক্র্যাটরা ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্লিন এনার্জি নীতিতে জোর দিচ্ছেন। তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে চাইছেন। যেখানে রিপাবলিকানরা তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে চান এবং বাইডেন প্রশাসনের কিছু জলবায়ু উদ্যোগের সমালোচনা করছেন।
রো ভি ওয়েড বাতিল হওয়ার পর থেকে গর্ভপাতের অধিকার একটি মূল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ফেডারেল স্তরে গর্ভপাত বৈধ করার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, আর রিপাবলিকানরা রাজ্য পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে।
গণতন্ত্রের ওপর আস্থা কমে যাওয়া এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নিয়ে এই নির্বাচনে তীব্র আলোচনা চলছে। ভোটাধিকার সীমিতকরণ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থা নষ্ট এবং রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা বেড়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ভোটাধিকার রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন, আর রিপাবলিকানরা নির্বাচনি জালিয়াতি রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষে। ২০২১ সালের ক্যাপিটল হিলে হামলা এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক, সামরিক বাজেট এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেইনকে সহায়তা দেয়া পররাষ্ট্র নীতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাও দুই দলের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন খাতে গভীর প্রভাব ফেলবে এবং অ্যামেরিকার ভবিষ্যত রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খবর: সিএনবিসি।
ক্যাটাগরিঃ আন্তর্জাতিক
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন