যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অর্থ ব্যয় বেড়েছে – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অর্থ ব্যয় বেড়েছে

  • ২৪/১০/২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, দেশের রাজনীতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় বেড়েছে। এটি অন্যতম প্রভাবক হয়ে উঠেছে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫৯০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এ কারণে প্রার্থী এবং পার্টির নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে
প্রচুর অর্থ ঢালায় নির্বাচন ঘিরে অনেক ধরনের প্রপাগাণ্ডাও সোশ্যাল মিডিয়ায় জায়গা করে নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে দেশের প্রচলিত নির্বাচন পরিচালনা প্রক্রিয়া কার্যকারিতা হারাচ্ছে। যার বড় প্রমাণ বিলিওনেয়ার ব্যবসায়ি ইলন মাস্কের অর্থ ঢালা। তাছাড়া রাজ্যভেদে একেক পার্টি ক্ষমতায় থাকায় ফেডারেল পর্যায়ে সুবিধা পেতে স্থানীয় আইনে পক্ষপাতদুষ্ট প্রয়োগে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ।
এদিকে চারটি সূত্র বলছে, নিরাপত্তা হুমকিতে প্রধান দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভোটারদের চমক দিতে আকস্মিক কিংবা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলো বরাবর নির্বাচনে জয় পরাজয়ের ভাগ্য গড়ে দেয়। চলতি বছর সাতটি রাজ্যকে সুইং হিসেবে ধরা হচ্ছে। আর এমন স্পর্শকাতর রাজ্যগুলোয় ধনকুবের ইলন মাস্ক নিবন্ধিত ভোটারদের মাঝে মিলিয়ন ডলারের লটারি ছেড়েছেন, যাতে করে রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ভোটার টানা যায়।
এনবিসি নিউজ তিন আইন বিশেষজ্ঞের বরাতে একে নির্বাচনি আচরণ বিধির লংঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কিন্তু দু:খজনক বিষয়ে হচ্ছে, এ নিয়ে দুই প্রধান দলের প্রার্থীদের কোনো কথা বলতে শোনা যায় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের প্রচলিত নির্বাচন পরিচালনা প্রক্রিয়া কার্যকারিতা হারাচ্ছে। কলোরাডোর স্প্রিংসয়ের মেয়র নাইজেরিয়া বংশোদ্ভূত ইয়ামি মোবালাডে স্বতন্ত্র হিসেবে রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু অঢেল অর্থের প্রবাহ তার মতো নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অস্তিত্ব হুমকিতে ফেলে দিয়েছে।
দুই প্রচার শিবির থেকে বলা হচ্ছে, ভোটার আকর্ষণের অত্যন্ত কার্যকর হলেও সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে গত জুলাইতে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার কথা মাথায় রেখে এবং সিক্রেট সার্ভিসের বিধিনিষেধে দুজনের নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। এদিকে রাশিয়া, চীন ও ইরানসহ বিদেশী প্রতিপক্ষগুলো নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, এমন দাবি করেছেন সাইবারসিকিউরিটি এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিসা) ডিরেক্টর জেন ইস্টারলি। সিসা নির্বাচনী অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্য ফেডারেল সরকারের নেতৃত্বে কাজ করে। এনবিসি নিউজকে গত সোমবার দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রতিপক্ষ দেশগুলো আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। নতুন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে তারা ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন সিসা প্রধান। ভোটারদের বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ইস্টারলি। ইস্টারলি বলেন, এই নির্বাচনে বিদেশী প্রতিপক্ষগুলোর প্রধান লক্ষ্য দুটি। প্রথমতো দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অ্যামেরিকানদের আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষুন্ন করা। দ্বিতীয়তো তারা দুই দলের মধ্যে বিরোধ তৈরির চেষ্টা করবে। গত কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সিসাও এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সিসা ডিরেক্টর বলেছেন, বিদেশী প্রতিপক্ষগুলো আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। এ কারণে তাদের কার্যকলাপ থেকে অ্যামেরিকানদের সতর্ক থাকা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা ছিল বলে মনে করেন ইস্টারলি। কারণ তখনকার নির্বাচনী অবকাঠামোকে সমালোচনামূলক অবকাঠামো হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনে ইরান, চায়না ও রাশিয়া থেকে মিথ্যা সংবাদ ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করার প্রমাণ পেয়েছিলো সিসা।
ইস্টারলি বলেছেন, বাস্তবতা হচ্ছে দেশের নির্বাচনী অবকাঠামো কখনোই বেশি সুরক্ষিত ছিলো না। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল না বলে মনে করেন তিনি।
সূত্র : এনবিসি নিউজ ও সিএনবিসি।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us