বিশ্বব্যাপী প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাদের (চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার বা সিএফও) মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ছে। সিএফওসহ আর্থিক কর্মকর্তাদের ৭০ শতাংশ ২০২৯ সালের মধ্যে এআই ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগে আগ্রহী। সাম্প্রতিক ডাচ তথ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ভল্টার্স ক্লুয়ারের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ভল্টার্স ক্লুয়ারের ‘এআই ইন ফাইন্যান্স, ফ্রম স্কেপটিসিজম টু অপটিমিজম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিএফওদের মধ্যে এআই সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। একে তারা ব্যবসায়িক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। ভল্টার্স ক্লুয়ারের ‘এআই ইন ফাইন্যান্স, ফ্রম স্কেপটিসিজম টু অপটিমিজম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিএফওদের মধ্যে এআই সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। একে তারা ব্যবসায়িক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। জরিপের প্রশ্নমালা ই-মেইল ও লাইভ ইভেন্টের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। এতে ইউরোপ, এশিয়া-প্যাসিফিক, উত্তর আমেরিকা, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মোট ১৮১ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৬১ শতাংশ আর্থিক, ২০ শতাংশ আইটি ও ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ অন্যান্য পেশাজীবী ছিলেন।
ভল্টার্স ক্লুয়ারের করপোরেট পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট (সিপিএম) বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার রালফ গার্টনার বলেন, ‘সিএফওদের কার্যালয়ে এআইয়ের ব্যবহার বিষয়ে এখন কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। আমাদের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ আর্থিক কর্মকর্তা পাঁচ বছরের মধ্যে এআই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। এআইয়ের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে তাদের আরো উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে।’
জরিপের তথ্যানুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আর্থিক কর্মকর্তা এরই মধ্যে এআই কীভাবে তাদের আর্থিক কার্যক্রমে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করছেন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ এআই ব্যবহার শুরু করেছেন। তারা তাদের প্রকল্পগুলোকে সফল বলেও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা এআইয়ের দ্বারা আর্থিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন না যে এআই দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমে তেমন প্রভাব ফেলবে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধিকে প্রধান বিবেচ্য বলে মনে করেন। এছাড়া ১৮ শতাংশ ব্যয় সাশ্রয় এবং একই পরিমাণ উত্তরদাতা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ত্বরান্বিত করাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এগুলো প্রমাণ করে এআই আর্থিক কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উন্নত করতে পারে।
প্রাথমিকভাবে এআই গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক ফল পাওয়ার কথা জানিয়েছে। ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা এআই ব্যবহারের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন। ৬ শতাংশ এরই মধ্যে পূর্ণমাত্রায় এআই ব্যবহার করছে এবং ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই প্রকল্পগুলোকে সম্প্রসারণে কাজ করছে।
অন্যদিকে ব্যয় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ট্যাংগো পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৭২ শতাংশ আইটি ও আর্থিক খাতের নেতা মনে করেন, এআই-থিমযুক্ত ক্লাউড ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ৫০০ জন আইটি ও আর্থিক পেশাজীবীর মধ্যে পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, চলতি বছর এমন ব্যয় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণে তাদের বিনিয়োগ লাভজনক হবে কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা করছে। (খবরঃ টেক মনিটর)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন