চীনে রফতানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে শঙ্কা – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

চীনে রফতানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে শঙ্কা

  • ১৭/১০/২০২৪

বৈশ্বিক চাহিদা কমায় গত মাসে চীনের রফতানি বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে মন্থরগতিতে থাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে।
চীনের রফতানি গত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে সেপ্টেম্বরে রফতানি প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে গেছে। অন্যদিকে একই সময়ে আমদানি বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। এর আগে অর্থনীতিবিদরা রফতানি ৬ শতাংশ এবং আমদানি দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। চীন গত মাসে ৮ হাজার ১৭০ কোটি ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় কম। আগস্টে দেশটি ৯ হাজার ১০০ কোটি ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্তের দেখা পেয়েছিল।
চীনা অর্থনীতি কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে খারাপ সময় পার করছে। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে দেশটির নেতাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিদ্যুচ্চালিত গাড়িসহ চীনা অন্যান্য পণ্যের ওপর কর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে রফতানিনির্ভর দেশটির অর্থনীতি আরো চাপে পড়েছে। আবাসন খাতও খারাপ পরিস্থিতি পার করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আবাসন খাতের পরিস্থিতির কারণে আমদানি চাহিদাও কমে গেছে। ফলে পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি বাড়েনি।
এদিকে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি এবং উৎপাদকদের জন্য পাইকারি মূল্য কমছে। অর্থনীতিতে গতি বাড়াতে চীনা নীতিনির্ধারকরা একাধিক পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আওতায় আগামী বছরের বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি ইউয়ান (২ হাজার ৮২০ কোটি ডলার) আগাম ব্যয় এবং নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হবে। এ নিয়ে আরো পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চীনের অর্থমন্ত্রী লান ফোয়ান।
তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, লানসহ অন্য কর্মকর্তারা এখনো অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা প্রদান করেননি। চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত চীনের রফতানি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় শুধু গাড়ি রফতানিই ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে মোট রফতানি প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি রয়েছে।
আইএনজি ইকোনমিকসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে গেলে বিনিয়োগ ও ভোগব্যয় খাতে উন্নতি করতে হবে, যাতে চলতি বছরের প্রায় ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জিচুন হুয়াং বলেন, ‘সরকার আগাম বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে শিল্প-উপকরণসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।’
বছরের শুরু থেকেই চীনের রফতানি খাত উৎপাদনকারীদের জন্য প্রধান সহায়ক ছিল। হুয়াং বলেন, ‘প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে স্বল্পমেয়াদে রফতানি বাড়বে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য বাধা বাড়ার ফলে এ বৃদ্ধি সংকুচিত হয়ে পড়বে।’ (খবরঃ এপি)

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us