ক্রমবর্ধমান ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জন্য সম্প্রতি বিশেষ বাজেট পরিকল্পনা প্রকাশ করে ফ্রান্স সরকার। এতে বেশকিছু খাতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কর আদায় বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে চায় দেশটির সরকার। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। সম্প্রতি ফ্রান্সের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী অ্যান্টনি আরম্যান্ড এবং বাজেটবিষয়ক মন্ত্রী সেন্ট-মার্টিনের বক্তব্যে দেশটির অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। এক খসড়া আইনে তারা লিখেছেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা রীতিমতো বিপর্যস্ত। দৃঢ় ও জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ২০২৪ সালের মধ্যে বাজেট ঘাটতি ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।’ নতুন বাজেট পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানো হবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলার। আর ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয় বাড়বে কর আদায়ের মাধ্যমে। সাড়ে ৪ হাজার কোটির মধ্যে ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার সাশ্রয় করা হবে রাষ্ট্রীয় খরচ কমানোর মাধ্যমে। সোশ্যাল সিকিউরিটি পুনরায় চালুর মাধ্যমে সাশ্রয় হবে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। বাকিটা কমানো হবে স্থানীয় সরকারের ব্যয় কমানোর মাধ্যমে। এছাড়া সরকারি খাতের অপ্রয়োজনীয় লোকবল এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর মাধ্যমেও বাজেট ঘাটতি কমাতে চায় ফরাসি সরকার। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ে সুযোগ দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ খাতে লোকবল কমতে পারে অন্তত চার হাজার। অন্যদিকে দেড় হাজার কোটি ডলারের মতো বাড়তি আয় হবে বিভিন্ন ব্যবসায় অতিরিক্ত কর আরোপের মাধ্যমে। দেড় হাজার কোটি ডলারের মতো আসবে ব্যক্তি পর্যায়ে অতিরিক্ত কর আরোপ করার ফলে।
২০২৪-২৫ সালে ফ্রান্সে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১ দশমিক ১ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি চলতি বছর কমে ২ দশমিক ১ এবং ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। আর বাজেট ঘাটতি গত বছরের সাড়ে ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার ৬ দশমিক ১ শতাংশে ঠেকতে পারে। কিন্তু আগামী বছর তা কমে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে নতুন বাজেট পরিকল্পনায় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকার অর্থনীতিবিদ রুবেন সেগুরা-কেউলা মনে করেন, ‘ফ্রান্সের বাজেট পরিকল্পনাকে উচ্চাভিলাষী মনে হচ্ছে। খুব বেশি উচ্চাভিলাষী হলে সেটির গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’ (খবরঃ ইউরো নিউজ)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন