যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। গত বৃহস্পতিবার দেশটির ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে অর্থনীতিবিদরা সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এদিকে মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নভেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সভায় এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট সুদহার কমানোর প্রত্যাশা বেড়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের বাজারে নভেম্বরে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগে ছিল ৮০ শতাংশ। আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এটাই শেষ প্রতিবেদন। এর আগে গত মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমিয়েছিল ফেড। প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমে আসে। এছাড়া বুধবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বুধবার রেকর্ড উচ্চতায় লেনদেন শেষ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ নিচে নেমে আসে। মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান মূল্যস্ফীতি হার টানা ছয় মাস ধরে কমছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির মতো পণ্য বাদ দিলে কোর মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া বছরে এ ধরনের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা কোর মূল্যস্ফীতি আগস্টে ৩ দশমিক ২ শতাংশে স্থির থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নিউভেনের পরিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান টনি রদ্রিগেজ বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ধীরগতিতে অর্জন করতে পারে।’
এদিকে গত সপ্তাহে ‘বেকারত্ব দাবি’র সংখ্যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। এ সময় বেকারত্ব বীমার জন্য আবেদন করা মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় ৩০ হাজার বেশি এবং ২০২৩ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।
এসব প্রতিবেদন বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশটি সম্পর্কে মিশ্র তথ্য প্রদান করছে। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ কমানোর চেষ্টা করছেন। হ্যারিস আশা করছেন, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ও ক্রমহ্রাসমান সুদহারের কারণে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকবেন। তবে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের রস স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক এরিক গর্ডন বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির হার হ্যারিসকে সাহায্য না-ও করতে পারে। কেননা সরকারের প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে ভোটাররা নিজেদের অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় তাদের অভিজ্ঞতা খুব বেশি ইতিবাচক নয়।’ তবে হোয়াইট হাউজের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক লেইল ব্রেইনার্ড বলেন, ‘প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো কভিড-১৯ মহামারী ও ইউক্রেনে যুদ্ধের আগের প্রবণতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এগুলো দাম নিয়ন্ত্রণের অব্যাহত অগ্রগতিতে প্রতিফলিত করে।’
মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব দাবির প্রতিবেদনকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় দাবি করা হচ্ছে, কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মন্দার দিকে চলে যাবে। আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ করের কারণে আমেরিকানদের বেতনে টান পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রতিবেদনগুলোকে খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন। কারণ তারা দ্রুততার সঙ্গে সুদহারকে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে না।
এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি। তিনি বলেন, ‘সামগ্রিক প্রবণতায় পরিষ্কার মূল্যস্ফীতি অনেক কমেছে এবং চাকরির বাজার এমন একটি স্তরে নেমে এসেছে, যা আমরা পূর্ণ কর্মসংস্থানের কাছাকাছি মনে করি।’ (খবরঃ ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন