প্যাকেজ ডেলিভারি দ্রুত ও আরো দক্ষ করতে ‘ভিশন অ্যাসিস্টেড প্যাকেজ রিট্রিভাল’ নামে একটি নতুন সিস্টেম তৈরি করেছে ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজন। এ প্রযুক্তি ডেলিভারি ট্রাকে প্যাকেজ হাইলাইট করতে সবুজ স্পটলাইট ব্যবহার করবে, ফলে ডেলিভারি কর্মীরা লেবেল না পড়েই দ্রুত সঠিক প্যাকেজটি খুঁজে পাবেন। অ্যামাজন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেলিভারিকে দ্রুততর এবং কেনাকাটা করার অভিজ্ঞতাকে উন্নত করার দিকে নজর দিচ্ছে।
এ বিষয়ে অ্যামাজনের গ্লোবাল স্টোরের সিইও ডগ হেরিংটন বলেছেন, ‘যখন আমরা ডেলিভারি দ্রুত করি, গ্রাহক কেনাকাটা আরো বাড়িয়ে দেন। একবার যদি গ্রাহক দ্রুত ডেলিভারি পান, তারা আবারো আমাদের কাছে আসবেন ও আরো কেনাকাটা করবেন।’ অ্যামাজন ঘোষণা করেছে, তারা আগামী বছরের শুরুতে ইভি নির্মাতা রিভিয়ানের সরবরাহকৃত এক হাজার ডেলিভারি ট্রাকে স্পটলাইট প্রযুক্তি ইনস্টল করবে। সিইও হেরিংটন বলছেন, ‘এ ডেলিভারি ভ্যানগুলোর ছাদের মধ্যে ক্যামেরা ও এলইডি প্রজেক্টর রয়েছে, যা অবিলম্বে প্যাকেজের লেবেল পড়তে পারে ও কোন গ্রাহকের জন্য কোন প্যাকেজটি তা বুঝতে পারে। অ্যামাজন রিভিয়ানের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার। কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে এক লাখ বৈদ্যুতিক ডেলিভারি ভ্যানের অর্ডার দিয়েছে।’
নতুন সিস্টেমটি অ্যামাজনের গুদামে ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তির মতো, যা রোবোটিক তাকে রাখা আইটেমগুলোর ওপর আলো ফেলে, যাতে কর্মীরা দ্রুত সেগুলো তুলতে ও বিনে রাখতে পারেন। এ প্রযুক্তি পুরনো পদ্ধতিকে প্রতিস্থাপন করেছে, যেখানে কর্মীদের পণ্য খুঁজে সরু আইল দিয়ে গাড়ি ঠেলে দিনে ১০ মাইল পর্যন্ত হাঁটতে হতো। কোম্পানিটির ভাষ্য, প্রতিটি প্যাকেজের ডেলিভারির সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড কমিয়ে আনা মানে, অ্যামাজন তার কর্মীদের আরো বেশি পণ্য ডেলিভারি করতে সাহায্য করছে। বর্তমানে প্রতিটি ডেলিভারি কর্মী প্রতিদিন প্রায় ১০০ ক্রেতার কাছে পৌঁছান।
এদিকে ‘মিউজিক সিটি’ নামে সুপরিচিত টেনেসির রাজধানী শহর ন্যাশভিলের কাছে একটি অনুষ্ঠানে অ্যামাজন ঘোষণা করেছে, তারা নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, যা অতি কম সময়ে গ্রাহকদের প্রযুক্তি ও পশুপাখির খাবারের মতো নতুন পণ্য সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে অনলাইন গাইডগুলোয় আরো বিস্তারিত তথ্য ও সুপারিশ থাকবে, ফলে গ্রাহক আরো সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সেবাটি আগামী বছর শুরু হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজন মূলত একটি অনলাইন বইয়ের দোকান হিসেবে যাত্রা শুরু করে, পরবর্তী সময় এটি বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়। অ্যামাজন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে ও বিভিন্ন শিল্পে তার প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। (খবরঃ দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন