অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের কোনো পরিকল্পনা নেই – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের কোনো পরিকল্পনা নেই

  • ০১/১০/২০২৪

অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেছেন হ্যারিস-ওয়ালজের ডেপুটি ক্যাম্পেইন ম্যানেজার কুইনটিন ফোকস। ওদিকে হোয়াইট হাউজের সাবেক সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারবেন না।
ফোকস মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতির ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ট্রাম্প শুধু এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা ছাড়া কোনো কাজ করেন না বলে অভিযোগ এই প্রচার কর্মকর্তার। এছাড়া আসন্ন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জে ডি ভ্যান্স বিতর্কে বেশ দক্ষ। বিতর্কে ট্রাম্পের ব্যর্থতকাকে তিনি অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম। তার মতে জে ডি ভ্যান্স ট্রাম্পের বিতর্কিত আচরনের পক্ষেই অবস্থান নেবেন।
সীমান্তে অনুপ্রেবশ ঠেকানোসহ ফেন্টানলের অবাধ প্রবাহ ঠেকাতে ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস কাজ করতে চান বলেও দাবি করেন ফোকস। তার মতে, কামালা হ্যারিসই একমাত্র প্রার্থী যার অভিজ্ঞতা রয়েছে সীমান্তে অপরাধ ঠেকানোর।
ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস শুক্রবার প্রথমবারের মতো অ্যারিজোনায় মেক্সিকো সীমান্ত পরিদর্শণ করেন। এসময় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরো কঠোর করার ঘোষণা দেন তিনি। এসময় কামালা হ্যারিস বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দেশের ভঙ্গুর অভিবাসন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করবেন। যার জন্য অংশীদার হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
গত চারবছরের মধ্যে এখন সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা সবচেয়ে নিম্নমুখী। তার পরও মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশে কামালা হ্যারিস এবং বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করেন ট্রাম্প। যেখানে ট্রাম্প অভিবাসন নীতি সংস্কার বা পরিবর্তন নিয়ে কোনো পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেননি। অ্যামেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন পরিকলল্পনার জন্য কামালা হ্যারিস দ্বিদলীয় বিলকে সমথর্ন দিলেও ট্রাম্প তাতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে হোয়াইট হাউজের সাবেক সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারবেন। সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ অনেক আগে থেকেই চলছে। সাবেক জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পরিণতি ভালো হবে না।
ম্যাকমাস্টার বলেন, দুই দলই রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, সাবেক জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কামালা হ্যারিসকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চার দশকের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে বলে তিনি মনে করেন। হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সংগঠনটির সঙ্গে নাসরুল্লাহ যুক্ত ছিলেন। সিবিএস নিউজকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে সাবেক জেনারেল ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লার পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এতে নারী শিশুসহ অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে এবং ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে কামালা হ্যারিসকে সমর্থনের কারণ হিসেবে এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, মানুষের চরিত্র তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ম্যারিল্যান্ডের সাবেক গভর্নর ল্যারি হোগান বলেন, ২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি ভোট দেননি। আগামী নির্বাচনে ট্রাম্প ও কামালা হ্যারিস দুজনের কাউকেই তিনি ভোট দিবেন না। বিষাক্ত এবং বিভাজনমূলক রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ জানান ম্যারিল্যান্ডের এই রিপাবলিকান সেনেটর প্রার্থী। এ কারণে রাজনীতিবিদদের উপর দেশের মানুষ বিরক্ত বলে জানান তিনি। ল্যারি হোগান মনে করেন, দুই দলই তাদের মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরে গেছে। ডেমেক্র্যাটিক পার্টি অনেকটা বাম আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত দলে পরিণত হয়েছে।
সূত্র : এবিসি ও সিবিএস।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us