ক্ষতিগ্রস্ত টিনের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

ক্ষতিগ্রস্ত টিনের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন

  • ১৫/০৯/২০২৪

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টিনের উৎস মিয়ানমারের মান মাও টিন মাইন। প্রায় এক বছর আগে এটি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। গত বছরের ২৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির টিনের খনি খনন ও প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম বন্ধ করার আদেশ দেয়া হয়। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী টিনের বাজারে সরবরাহ চেইন।
মান মাও টিন মাইনের কার্যক্রম বন্ধের পর পণ্যটি তৈরির কাঁচামাল ও পরিশোধিত টিনের মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় বাজারে পুরোপুরি এর প্রভাব পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেছিলেন, সরবরাহের প্রভাব কয়েক মাসের বেশি স্থায়ী হবে না। কিন্তু এ পরিস্থিতি সম্প্রতি পরিবর্তন হতে শুরু করেছে।
বৈশ্বিক টিন সরবরাহের পরিসংখ্যানে মিয়ানমারের ওয়া স্টেটে কী পরিমাণ টিনের খনি উত্তোলন করা হয়, এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। তবে আন্তর্জাতিক টিন অ্যাসোসিয়েশনের অনুমান অনুযায়ী, মিয়ানমার ২০২২ সালে প্রায় ৪০ হাজার টন টিন উৎপাদন করেছেন, এর মধ্যে মান মাওয়ের হিস্যা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার পর টিন উৎপাদনে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ মিয়ানমার। আর বিশ্বব্যাপী পণ্যটির খনি সরবরাহের ৭-৮ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে মান মাও।
মিয়ানমানের প্রধান টিন খনি উত্তোলন কেন্দ্রটি বন্ধের প্রভাব চীনের আমদানি প্রবাহে ক্রমবর্ধমানভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। চীন আগস্ট ২০২৩ নিরীক্ষা শুরুর পরের ১০ মাস মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন টিন কনসেনট্রেট আমদানি করেছে। পূর্ববর্তী ১০ মাসে যা ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার টন। মিয়ানমারে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চীনের ব্যবসায়ীরা অস্ট্রেলিয়া, বলিভিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে আমদানি বাড়িয়েছেন। যদিও দেশগুলো থেকে আমদানির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এলএসইজি ডাটা অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে টিনের কাঁচামাল আমদানি আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমেছে।
এদিকে চীনের টিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ সূচি ও উৎপাদন পরিকল্পনা সমন্বয় করছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিশোধিত টিন উৎপাদক প্রতিষ্ঠান গেইজু স্মেল্টার আগস্টের শেষ দিকে ৪৫ দিনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উৎপাদন বন্ধ করেছে।
স্থানীয় তথ্য সরবরাহকারী সাংহাই মেটালস মার্কেট জানায়, ইউনান ও জিয়াংসি প্রদেশের অন্য স্মেল্টাররা কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন কমাচ্ছে।
বিশ্বের আরেক শীর্ষ টিন উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া। সম্প্রতি এ দেশ থেকেও ধাতুটির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে চলতি বছরের জন্য টিনের দামের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনসের একটি ইউনিট)। এ সময় ধাতুটির দাম বাড়তে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পূর্বাভাসে বিএমআই জানায়, চলতি বছর টনপ্রতি টিনের দাম হতে পারে ৩০ হাজার ডলার। এর আগের দেয়া পূর্বাভাসে চলতি বছর টনপ্রতি টিনের দাম ২৮ হাজার ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। বিশ্বব্যাপী টিনের দাম আগস্ট শেষে ছিল টনপ্রতি ৩২ হাজার ৫০০ ডলার। যদিও চলতি বছরের এ পর্যন্ত গড় মূল্য প্রতি টনে ৩০ হাজার ডলারের নিচে রয়েছে। (খবরঃ রয়টার্স)

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us