অটোমোবাইল ও টায়ার শিল্পে প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। তবে গত মাসে প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনের কাঁচামাল ল্যাটেক্সের সরবরাহ কমে যায়। ফলে সরবরাহ সংকট ও বাড়তি চাহিদায় গত আগস্টজুড়ে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক রাবারের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, ভারত ও চীনের মতো বিশ্বের মূল বাজারগুলোয় প্রাকৃতিক রাবারের (টিএসআর) চাহিদা বেড়েছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম থাইল্যান্ড। দেশটিতে গত মাসে প্রাকৃতিক রাবারের দাম ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। টনপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ১ হাজার ৭৪০ ডলারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগস্টে থাইল্যান্ডে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে প্রধান প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বন্যা শুরু হয়। এতে ব্যাহত হয় প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন, যা দেশটিতে পণ্যটির দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
তারা আরো জানান, অন্যান্য দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রাকৃতিক রাবারের দাম ঊর্ধ্বমুখিতা ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে। তবে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকা সত্ত্বেও এখনো ফলন বাড়াতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কৃষকরা।
বিশ্বে প্রাকৃতিক রাবারের প্রধান আমদানিকারক দেশ চীন। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির কিংডাও অঞ্চলের তিয়ানজিয়াও বন্ডেড ও সাধারণ বাণিজ্যের জন্য মোট মজুদ কিছুটা কমে ৪ লাখ ৬০ হাজার ১০০ টনে দাঁড়ায়। গত মাসে চীনের ইউনান প্রদেশের কিছু অংশে প্রাকৃতিক রাবার মৌসুমি পাতাঝরা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রাকৃতিক রাবারের কাঁচামাল সরবরাহকে আরো সংকটে ফেলে। এতে দাম বেড়ে যায় পণ্যটির।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনের দিনগুলোয় অস্থিতিশীল থাকতে পারে প্রাকৃতিক রাবারের বাজার। অস্থিতিশীল থাকার পেছনে ভূমিকা রাখবে ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহ সীমাবদ্ধতা ও ঊর্ধ্বমুখী দাম।
প্রাকৃতিক রাবারের বৈশ্বিক উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষস্থান দখল করে আছে মালয়েশিয়া। দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগের বিবৃতির বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানায়, জুলাইয়ে দেশটির প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন এর আগের মাসের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় মোট উৎপাদন পৌঁছেছে ৩৭ হাজার ৯৬০ টনে, জুনে যা ছিল ২৯ হাজার ৮৮১ টন। জুলাইয়ে মালয়েশিয়ায় প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৫৩৩ টন। উৎপাদন বাড়লেও এ সময় মালয়েশিয়ার মোট মজুদ জুনের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬ টন হয়েছে। গত জুনে এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫২ টন।
এদিকে জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রাকৃতিক রাবারের রফতানি জুনের তুলনায় ২১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। মোট রফতানি পৌঁছেছে ৪৮ হাজার ১৯৯ টনে, জুনে যা ছিল ৩৯ হাজার ৮০৩ টন। (খবর: কেম অ্যানালিস্ট)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন