জাপানে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির মাথাব্যথার কারণ অতিপর্যটন – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

জাপানে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির মাথাব্যথার কারণ অতিপর্যটন

  • ০৪/০৯/২০২৪

কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যটনে সামনের সারিতে রয়েছে জাপান। অতিপর্যটনের কারণে দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি কিছু চাপের মধ্যেও রয়েছে। নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদন অনুসারে, ভ্রমণকারীদের কেনাকাটা ও খাবারের খরচ জাপানের ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিকে নতুন ধরনের সমস্যায় ফেলেছে। এ কারণে কিছু কোম্পানি বিদেশে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ডের জন্য উচ্চ ফি আরোপের কথা ভাবছে।
বিদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড জাপানে ব্যবহার করা হলে স্থানীয় লেনদেনকারী কোম্পানিকে বাড়তি খরচ করতে হয়। তখন বিদেশী কার্ড ইস্যুকারী ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হোল্ডার যেমন ভিসা বা মাস্টারকার্ডের উভয়কেই ফি দিতে হয়। অনেক সময় এ অর্থের পরিমাণ জাপানের কোম্পানির ফির পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফি বাবদ জাপান কোম্পানিগুলোকে চলতি বছর ৩ হাজার কোটি ইয়েন বা ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করতে হতে পারে, যা ২০২৩ সালে পরিশোধ করা ফির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
জাপানের বড় আটটি ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির ব্যাপারে নিক্কেইয়ের জরিপ বলছে, সাতটি কোম্পানির ক্ষেত্রেই লোকসান আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। এদের মধ্যে ছয়টি কোম্পানি বলেছে, তারা বিদেশী কার্ডের জন্য ভিন্ন ফি প্রয়োগের কথা ভাবছে বা এরই মধ্যে আলাদাভাবে ফি নেয়া শুরু করেছে।
তবে দুই স্তরের ফি নির্ধারণের ফলাফল পরিকল্পনা অনুযায়ী না হওয়ায় তা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কারণ পণ্য ও সেবার দাম জাপান ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বেশি নির্ধারণ করা হলেও উচ্চ ফি বিদেশী পর্যটকদের নয়, বরং দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোর ওপর প্রভাব ফেলেছে।
জাপানে সুমিতোমো মিৎসুই কার্ড ও মিৎসুবিশি ইউএফজে নিকোসের মতো কোম্পানিগুলো কার্ড ইস্যু করে। প্রতিটি পেমেন্টের জন্য জাপানের যে দোকানগুলো ১ দশমিক ৯ শতাংশ ফি দেয়, সে দোকানগুলোর পেমেন্ট নেটওয়ার্কও পরিচালনা করে সংস্থাগুলো।
জাপানে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা বাবদ প্রান্তীয় মুনাফার পরিমাণ প্রায় দশমিক ২ শতাংশ। কোম্পানিগুলো দোকানগুলোর সঙ্গে ফি নিয়ে আলোচনাও করেছে। কারণ ফি হিসেবে তারা যা সংগ্রহ করে, এর চেয়ে বেশি কার্ড ইস্যুকারী কোম্পানিকে পরিশোধ করতে হয়।
বিদেশী ইস্যুকৃত কার্ড দিয়ে করা লেনদেনের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য। যদি একটি জাপানি কার্ড কোম্পানিকে বিদেশী কার্ড ইস্যুকারীকে প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কার্ড ব্র্যান্ডকে প্রায় দশমিক ৮ শতাংশ দিতে হয়, তবে সিস্টেম ও অন্যান্য ফি বাবদ পেমেন্ট প্রায় দশমিক ৭ শতাংশ লোকসানের মুখে পড়ে। এসব কারণে জাপানে বিদেশী দর্শনার্থীদের লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্ড কোম্পানিগুলোর ক্ষতি বাড়ছে। একটি সংস্থা বলেছে যে এক বছরে তার ক্ষতি ১০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি ইয়েনে গিয়ে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিলাসবহুল বুটিক ও হোটেলের ক্ষেত্রে জাপানের অভ্যন্তরীণ কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করলে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের ব্যবসা দ্বি-স্তর মূল্য নির্ধারণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে।
টোকিওর একটি বিলাসবহুল হোটেল দুই ধরনের মূল্য নির্ধারণের ধারণাকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হোটেলটির একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘কেবল উচ্চ ফি থাকা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য রুম রেট বাড়ানো বেশ কঠিন।’
সাম্প্রতিক সময় পর্যটন নিয়ন্ত্রণে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। এর কারণ হলো, বিদেশীদের চাপের কারণে স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত ফি আরোপ, প্রবেশসীমা নিয়ন্ত্রণসহ নানা ধরনের নিয়ম জারি করেছে দেশটি।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us