যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে সয়াবিন রফতানি কমেছে। তবে আগামী মাস গুলোয় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন রফতানি আবার বাড়বে। কোব্যাংকের নলেজ এক্সচেঞ্জের নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানি ২০০৮ সালের একই সময়ের তুলনায় সবচেয়ে কম ছিল। এছাড়া ২০১৯ সালের চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানি নিম্নমুখী ছিল।
কোব্যাংক জানায়, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, দক্ষিণ আমেরিকায় পর্যাপ্ত ফলন ও ধীরগতির বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন রফতানি কমেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে বাণিজ্য নীতির অস্থিতিশীলতাও রফতানি কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত সয়াবিন রফতানির সর্বোচ্চ সময়কাল। সাধারণত বৈশ্বিক সয়াবিন আমদানির ৬০ শতাংশই করে চীন। দেশটির মার্কিন সয়াবিন রফতানির অর্ধেকেরও বেশি হিস্যা থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবার দেশটির সয়াবিন আমদানি ২০ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সর্বনিম্নে নেমেছে। ব্রাজিলে নিম্নমুখী দাম ও ডলারের বিপরীতে মুদ্রার বিনিময় হার কম থাকায় চলতি বছর চীনের আমদানিকারকরা দেশটি থেকে সয়াবিন আমদানি বাড়িয়েছেন।
কোব্যাংকের প্রধান শস্য ও তেলবীজ অর্থনীতিবিদ ট্যানার এমক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানি বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে চীনে উল্লেখযোগ্য হারে চাহিদা কমেছে। তবে আগামী দিনগুলোয় রফতানি আবার বাড়তে পারে।’
তিনি জানান, আগামী দিনগুলোয় রফতানি বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে দক্ষিণ আমরিকায় পূর্বাভাসের তুলনায় সয়াবিনের ফলন কমে যাওয়া, ইউরোপে চাহিদা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমানো ও চীনের অর্থনেতিক পুনরুদ্ধার।
ট্যানার এমক আরো বলেন, ‘ব্রাজিলে লা নিনার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে দেশটিতে উৎপাদন কমতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের চাহিদা বিশ্বব্যাপী বাড়বে।’
Source : World Gain.Com
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন