অস্ট্রেলিয়ায় মূল্যস্ফীতি চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিলে সরকারের ভর্তুকির সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে বড় ধরনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি কমলেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার কমার ক্ষেত্রে মন্থরগতি রয়ে গেছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে দেশটিতে সুদহার কমানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বছরওয়ারি হিসাবে ভোক্তামূল্য সূচক (সিপিআই) জুলাইয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা জুনে ছিল ৩ দশমিক ৮। যদিও পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল সিপিআই বাড়বে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রত্যাশিত হারে মূল্যস্ফীতি না কমায় সুদহার কমানোর সম্ভাবনাও কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিএ) সুদহার কমাতে পারে, এমন সম্ভাবনা ছিল ৫৮ শতাংশ। কিন্তু এখন সে সম্ভাবনা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৮ সেন্ট, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে তিন বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ হয়েছে।
জুনের তুলনায় জুলাইয়ে সিপিআইয়ের তেমন পরিবর্তন হয়নি। বিদ্যুৎ ও পেট্রোলের দাম যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪ ও ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও বেড়েছে খাবার ও গ্যাসের দাম। পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত মাসে কুইন্সল্যান্ড ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের বিলে ভর্তুকি দিয়েছে ফেডারেল ও রাজ্য সরকার। অন্যান্য রাজ্যে চলতি মাস থেকে এ ভর্তুকি শুরু হবে। এজন্য সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমেছে। সরকার যদি ভর্তুকি না দিত তাহলে বিদ্যুতের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ত।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরবিএ ২০২২ সালের মে মাস থেকে সুদহার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ করেছে। যদিও বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার খুব বেশি না, তবু লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে। (খবরঃ রয়টার্স)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন