যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর এবার চীনা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ওপর শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে কানাডা। উত্তর আমেরিকার দেশটি চীনা ইভি আমদানির ওপর শতভাগ এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
কানাডা সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, চীনে উৎপাদিত টেসলার ইভির ওপরও এ শুল্কহার প্রযোজ্য হবে। নোভা স্কশিয়া প্রদেশের রাজধানী হ্যালিফ্যাক্সে সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘চীন বাজার চাহিদার তুলনায় বেশি ইভি উৎপাদন করছে। এ সমস্যা মোকাবেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে অসম নীতি অবলম্বন করছে। আমরা এ অবস্থা মোকাবেলা করতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছি।’
শতভাগ শুল্কারোপে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কানাডার চীনা দূতাবাস। একে ‘সুরক্ষাবাদী’ ও ‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব জাহির করা’ সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে দূতাবাস বলেছে, এর মাধ্যমে কানাডা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালা উপেক্ষা করেছে।
দূতাবাসের এক মুখপাত্র গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কানাডার এ পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে কানাডিয়ান ভোক্তা ও উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দেশটির সরকার বারংবার আপত্তি এবং জোরালো যুক্তি উপেক্ষা করে চীনা ইভির ওপর শুল্কারোপ করেছে।’
কানাডার এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘চীনে উৎপাদিত সব ধরনের ইভির ওপর ১০০ শতাংশ সারট্যাক্স আরোপ করা হবে। তবে চীনা কারখানায় গাড়ি উৎপাদন করে, এমন কোম্পানি অন্য কোনো দেশে কারখানা স্থানান্তর করলে তারা আর এ শুল্কের আওতায় আসবে না।’ এ ব্যাপারে টেসলার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত মে মাসে চীনা ইভি আমদানির ওপর শুল্ক চার গুণ বাড়িয়ে ১০০ শতাংশে উন্নীত করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া চলতি মাসে চীনা ইভির ওপর সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ইইউ। (খবরঃ রয়টার্স)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন