এশিয়ার দেশগুলোয় চলতি গ্রীষ্মে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ফলে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। এ কারণে এশিয়ার দেশগুলো সমুদ্রপথে তাপীয় কয়লার আমদানি বাড়িয়েছে। এমনকি আগস্টে দেশগুলোর জ্বালানিপণ্যটির আমদানি আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছার পথে রয়েছে। পণ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের সংকলিত ডাটা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এশিয়ার মধ্যে তাপীয় কয়লার প্রধান আমদানিকারক দেশ ভারত ও চীন। তবে চলতি মাসের আমদানি বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উত্তর এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ। এমনকি তাইওয়ানেও চলতি মাসে কয়লা আমদানি বাড়ছে।
কেপলারের সংকলিত ডাটা অনুসারে, আগস্টে এশিয়ার দেশগুলোর বন্দরে মোট ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা পৌঁছবে, যা গত ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। ডিসেম্বরে এ পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টন। জুলাইয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলো ৭ কোটি ৭১ লাখ টন কয়লা আমদানি করেছিল। আগস্টে আমদানীকৃত কয়লার বেশির ভাগই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে।
চীন ও ভারতের পর এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম কয়লা আমদানিকারক দেশ জাপান। কেপলার জানায়, আগস্টে দেশটি মোট ৯০ লাখ ৯০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানির পথে রয়েছে, জুলাইয়ে যা ছিল ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টন। গত বছরের আগস্টে জাপান ৮৯ লাখ ১০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছিল। তাপমাত্রা বেশি থাকায় জুলাই ও আগস্টে দেশটি সাধারণত সবচেয়ে বেশি কয়লা আমদানি করে।
এশিয়ার চতুর্থ শীর্ষ কয়লা আমদানিকারক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। আগস্টে দেশটি মোট ৮২ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা আমদানি করবে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। গত মাসে দেশটি মোট ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছিল।
কেপলার আরো জানায়, তাইওয়ান চলতি মাসে ৪১ লাখ ৩০ হাজার টন কয়লা আমদানি করতে পারে, জুলাইয়ে যা ছিল ৪৪ লাখ ৬০ হাজার টন। তবে জুলাই ও আগস্টে তাইওয়ানের সমুদ্রপথে কয়লা আমদানি গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান সাধারণত উচ্চ গ্রেডের তাপীয় কয়লা আমদানি করে। আর এটির মানদণ্ড হলো অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বন্দরে লোড করা প্রতি কিলোগ্রাম শক্তির পরিমাণ ছয় হাজার কিলোক্যালরি। পণ্যমূল্য নির্ধারণ সংস্থা আর্গাস এ মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে।
Source : Reuters
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন