ইউরোপের চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করার অভিযোগে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবারকে ২৯ কোটি ইউরো (৩২ কোটি ৪০ লাখ ডলার) জরিমানা করেছে নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষাবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডাচ ডেটা প্রোটেকশন অথরিটি (ডিপিএ)।
এক বিবৃতিতে ডিপিএ জানিয়েছে, উবারের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষাবিষয়ক নীতিমালা (জিডিপিআর) লঙ্ঘনের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, সেটির সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে এই জরিমানা।
‘যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য পাঠানো ইস্যুতে জিডিপিআরের যেসব নীতিমালা রয়েছে, সেসবের একটিও মানেনি উবার। এটা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ,’ বলা হয়েছে ডিপিএর বিবৃতিতে। উবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই জরিমানার আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করবে কোম্পানি। উবারের এক মুখপাত্র এপিকে বলেন, ‘আমরা জিডিপিআর সম্পূর্ণ মেনে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের হেডকোয়ার্টারে তথ্য পাঠিয়েছি। জরিমানার যে আদেশ দেয়া হয়েছে, সেটি ত্রুটিপূর্ণ এবং অন্যায্য। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করব।’
এর আগে গত মার্চে উবারকে অস্ট্রেলিয়ার ৮ হাজারের বেশি ট্যাক্সি এবং ভাড়ায় চালিত গাড়ির চালকদের মোট ১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দেন অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল শহর সিডনির একটি আদালত এই রায় দেন। ২০১৯ সালে উবারের কাছে এই পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ চেয়ে সিডনির আদালতে মামলা করেছিলেন এই ট্যাক্সিচালকরা। মামলার অভিযোগে তারা বলেছিলেন, ‘২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় উবারের প্রবেশের পর থেকে তারা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এই লোকসানের ক্ষতিপূরণ চান তারা।
মামলাটির ওপর দীর্ঘ ৫ বছর শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম করার পর রায় ঘোষণা করেন বিচারক। বাদীপক্ষের আইনজীবী মিশেল ডোনেলি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিচার বিভাগের ইতিহাসে এ পর্যন্ত যত ক্ষতিপূরণ আদালত অনুমোদন করেছেন, সেসবের মধ্যে অঙ্কের হিসাবে ট্যাক্সি ড্রাইভারদের এই ক্ষতিপূরণ পঞ্চম বৃহত্তম।
খবর: এপি।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন