ইউএস ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) অনুমান অনুসারে, এল নিনোর পরবর্তী ধাপে শুরু হতে পারে লা নিনা। এটির প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন হতে পারে। এতে প্রভাবিত হতে পারে বৈশ্বিক পণ্যবাজার। বিশ্লেষকদের মতে, আবহাওয়া পরিস্থিতির এমন পূর্বাভাসে একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, অন্যদিকে কোনো কোনো দেশে তৈরি হয়েছে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা।
বিশ্লেষকরা জানান, লা নিনা আবহাওয়া পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কৃষিপণ্য। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ফসল উৎপাদন ও মজুদ। তবে এ সময় ব্রাজিলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে বাড়তে পারে সয়াবিন উৎপাদন। ফলে নিম্নমুখী হতে পারে পণ্যটির দাম।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় এ সময় চাল ও পাম অয়েলের উৎপাদন বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া আরো কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রভাব ফেলবে গম ও তুলা উৎপাদনে। তবে দেশটির মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে সয়াবিন উৎপাদন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বৈশ্বিক ধাতব পণ্যের বাজার, খনি এবং পরিবহন কার্যক্রম বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফিউচার অ্যান্ড কমোডিটি মার্কেট এক্সপার্ট জাফের এরজেজেন বলেন, ‘লা নিনা আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন হতে পারে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে হালকা ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। অন্যদিকে কেন্দ্র ও দক্ষিণাঞ্চলে বিরাজ করতে পারে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়া। একইভাবে ব্রাজিলের উত্তরে তুলনামূলক আর্দ্র আবহাওয়া ও দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হতে পারে। একইভাবে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে মৃদু আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।’
এরজেজেন জানান, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে লা নিনার সময় আর্দ্র আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। এতে কৃষিপণ্যের ফলন তুলনামূলক বাড়তে পারে।
তিরি আরো জানান, ব্রাজিলের কিছু অংশে গরম ও বৃষ্টির কারণে কফি ও চিনির দামের ওঠানামা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বৃষ্টি ও দক্ষিণে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে কমে যেতে পারে গম ও ভুট্টা উৎপাদন। লা নিনা আবহাওয়া পরিস্থিতিতে ভিয়েতনাম ও ভারতে কৃষিপণ্যের ফলন তুলনামূলক বাড়তে পারে। এরজেজেন বলেন, ‘চলতি বছর বিশ্ব প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হারিকেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। হারিকেন ও টাইফুনের আকার বাড়লে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এ সময় পানামা খাল দিয়ে পরিবহন ও কনটেইনারের ব্যয় বাড়তে পারে।’
এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতিতে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং পশ্চিম ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে বিস্তৃত স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বজায় থাকে। প্রতি দুই-সাত বছরে এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। এটি গত বছরের জুনে শুরু হয়ে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। আর লা নিনা আবহাওয়া পরিস্থিতিটি এল নিনোর বিপরীত পর্যায়। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা তিন মাস ধরে মাইনাস দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। তাই প্রকৃতিতে শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। (খবরঃ আনাদোলু এজেন্সি)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন