মার্কিন জ্বালানি তেল ও গ্যাস শিল্পে অধিগ্রহণ বেড়েছে ৫৭ শতাংশ – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

মার্কিন জ্বালানি তেল ও গ্যাস শিল্পে অধিগ্রহণ বেড়েছে ৫৭ শতাংশ

  • ২৪/০৮/২০২৪

বৈশ্বিক করপোরেট খাতে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) চুক্তির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। যাকে বিশ্লেষকরা বিনিয়োগের সাম্প্রতিক শীর্ষ প্রবণতা হিসেবে দেখছেন, যা আরো কিছু সময় প্রাধান্য বিস্তার করবে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন জ্বালানি তেল ও গ্যাস শিল্পেও এমঅ্যান্ডএ চুক্তি ব্যবসা কৌশল হিসেবে সমাদর পাচ্ছে। আগের বছরের তুলনায় দেশটিতে ২০২৩ সালে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ চুক্তি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। এ ধরনের চুক্তির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অর্জিত মুনাফা থেকে বড় অংকের নগদ অর্থ খরচ করেছে কোম্পানিগুলো।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের (ইওয়াই) প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে মার্কিন শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানিগুলো একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ বাবদ ৪ হাজার ৯২০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। ২০২২ সালে এ ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার ১৪০ কোটি ডলার।
সামগ্রিকভাবে ২০২৩ সালের চুক্তি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় ও বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছে মার্কিন জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। এমঅ্যান্ডএ চুক্তির এ ধারা চলতি বছর ও ২০২৫ সালে বজায় থাকবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে ইওয়াই।
২০২৩ সালে নতুন জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উৎস অনুসন্ধান, প্রযুক্তির বিকাশ ও উত্তোলন বাবদ বড় অংকের খরচ করেছে কোম্পানিগুলো, যা ২০২২ সালের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩১০ কোটি ডলার।
করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে কোম্পানিগুলো একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার পুনঃক্রয় প্রক্রিয়া বেশ সমালোচিতও হয়েছে। চলতি বছরও চুক্তি ও নতুন বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকেনি জ্বালানি কোম্পানিগুলো। শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্নের ওপর বছরব্যাপী মনোযোগ ছিল তাদের, যা ব্যবসা কৌশলে পরিবর্তনকে চিহ্নিত করেছে। লভ্যাংশের ভাগাভাগির কারণে এ খাত থেকে সরে যাওয়া অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে আগ্রহ পেয়েছেন। গত বছর জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ও শেয়ার পুনঃক্রয় বাবদ ২ হাজার ৮৯ কোটি ডলার খরচ করেছে। তবে তা ২০২২ সালের রেকর্ড ৫ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারের অর্ধেক।
তবে সব খাত মিলিয়ে এমঅ্যান্ডএ কার্যক্রম হিসাব করলে ২০২৩ সালের কোম্পানিগুলোর একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণে লেনদেন হয়েছে ১৪ হাজার ২৩০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি। সামগ্রিক এমঅ্যান্ডএ চুক্তিতে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতের ভূমিকা ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
এ বিষয়ে ইওয়াইয়ে কৌশলগত ও জ্বালানি খাতে লেনদেন বিভাগের অংশীদার ব্রুস অন জানান, ২০২৩ সালের বাণিজ্যিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। কোম্পানিগুলো আরো বেশি সংহত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
এ সময় কোম্পানিগুলো নিজেদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও বিদ্যমান কার্যক্রমকে আরো ফলপ্রসূ করতে নগদ অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে মুনাফা ৫৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৯০ কোটি ডলার। এর প্রধান কারণ হিসেবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিএ) দাম কমে যাওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
মার্কিন এনার্জি জায়ান্টগুলোর মধ্যে এমঅ্যান্ডএ চুক্তিতে শীর্ষ অবস্থানে ছিল শেভরন। কোম্পানিটি ২০২৩ সালের ১ হাজার ৬০ কোটি ডলারের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছে। তাদের বেশির ভাগ অর্থ খরচ হয়েছে ডেনভারভিত্তিক জ্বালানি তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী কোম্পানি পিডিসি এনার্জি কিনতে। পিডিসি এনার্জি কিনতে ৬৩০ কোটি ডলার খরচ করেছে শেভরন।
এর পরই রয়েছে এক্সন মবিল। গত বছরের মে মাসে ৬ হাজার কোটি ডলারে টেক্সাসভিত্তিক পাইওনিয়ার ন্যাচারাল রিসোর্স অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে কোম্পানিটি। এছাড়া অক্টোবরে জ্বালানি তেল উৎপাদক হেস কিনতে আরেকটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল শেভরন। ওই চুক্তির মূল্য ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। তবে আইনি বিরোধের কারণে চুক্তিটি কমপক্ষে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিলম্বিত হবে। নইলে এ চুক্তির কারণ ২০২৩ সালের অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অর্থের অংক আরো বড় আকার ধারণ করত।
কভিড-১৯-পরবর্তী শ্লথ প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ সুদহারের মাঝেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে এমঅ্যান্ডএ চুক্তি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের সিইও ডেভিড সলোমন। তার মতে, ২০২৪ সালে সুদহার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ইতিবাচক গতি পেতে পারে। বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ও ইতিবাচক নতুন প্রবণতা বিদ্যমান। এ কারণে ২০২৩ সালের তুলনায় পরের দুই বছরে বিশ্বব্যাপী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাড়তে পারে। (খবরঃ রয়টার্স)

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us