পানির পাম্পের ত্রুটির কারণে ৭ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিএমডব্লিউ। পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি থেকে সৃষ্ট শর্টসার্কিটের কারণে এসব গাড়িতে আগুন লাগার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এনএইচটিএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব গাড়ির পানির পাম্পে পর্যাপ্ত সিলিং নেই। ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগস্থলে পানি ঢুকে শর্টসার্কিট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে গাড়িগুলোয় আগুন লেগে যাওয়ার আশঙ্কাও আছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গাড়িগুলো মেরামতের জন্য ফিরিয়ে নিতে বিএমডব্লিউকে আদেশ দেয়া হয়েছে।
এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের আওতায় এক্স১, এক্স৩ ও এক্স৫ মডেলসহ আরো বেশকিছু গাড়িমালিকদের থেকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। গাড়িমালিকদের অক্টোবরে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো হবে। এতে তাদের বিনামূল্যে গাড়ির প্রয়োজনীয় অংশ মেরামত করতে বিএমডব্লিউর অনুমোদিত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা থাকবে। ত্রুটি মেরামতের পর তা মালিকদের ফেরত দেয়া হবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গাড়িগুলোর পানির পাম্প ও সংযোগস্থল পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলা হবে। পাম্প থেকে কোনো তরল পদার্থ যাতে বৈদ্যুতিক সংযোগস্থলে প্রবেশ করতে না পারে, এজন্য একটি শিল্ডও বসানো হবে।
জানা গেছে, চলতি মাস পর্যন্ত বিএমডব্লিউর ত্রুটিপূর্ণ পাম্প নিয়ে প্রায় ১৮ জন গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। তবে কোম্পানিটির দাবি, এ ত্রুটির কারণে এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা বা আঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
জুলাইয়ের পর তৃতীয়বারের মতো বিএমডব্লিউর গাড়ি ফিরিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটল। বোল্টের সমস্যার কারণে গত ২৪ জুলাই উত্তর আমেরিকায় ২ লাখ ৯০ হাজারের বেশি গাড়ি ফিরিয়ে নেয় কোম্পানিটি। এ সমস্যার কারণে গাড়ির পেছনে ধাক্কা লাগলে অভ্যন্তরীণ কার্গো রেল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এর আগে ১০ জুলাই এয়ারব্যাগে ইনফ্লেটরের সমস্যার কারণে ৩ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি প্রত্যাহার করেছিল বিএমডব্লিউ। ইনফ্লেটরগুলো ধাক্কা লাগলে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা ছিল। ফলে ধাতব টুকরার আঘাতে চালক ও যাত্রী আহত হতে পারত।
এদিকে বারবার গাড়ি ফিরিয়ে নেয়ার ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিএমডব্লিউর সুনাম ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কোম্পানিটি এরই মধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপে চীনে তৈরি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুল্কের পরিমাণ হতে পারে সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ। সিদ্ধান্তটি চীনকেন্দ্রিক হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ফক্স ওয়াগনের মতো বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। কেননা এসব কোম্পানিরই চীনে বড় আকারে উৎপাদন অবকাঠামো রয়েছে। (খবর: ইউরোনিউজ)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন