বছরজুড়ে অস্থিতিশীল থাকতে পারে বৈশ্বিক কফির বাজার – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

বছরজুড়ে অস্থিতিশীল থাকতে পারে বৈশ্বিক কফির বাজার

  • ২২/০৮/২০২৪

বিশ্বব্যাপী কফির বাজার বর্তমানে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন ও পরিবহন সমস্যার কারণে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। এসব কারণে বছরজুড়ে অস্থিতিশীল থাকতে পারে কফির বাজার। বিশ্লেষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া। এছাড়া পরিবেশগত কিছু বিধিনিষেধের কারণেও সম্প্রতি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে বিশ্বব্যাপী কফির দাম।
তবে কিছু বিশ্লেষক জানিয়েছেন, আগামী বছর এ পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন অন্য বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য কারণে কফির দাম দীর্ঘমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।
পণ্যটির বাজারমূল্য সাম্প্রতিক সময়ে আরো বেড়েছে। লন্ডনের ফিউচার মার্কেটে রোবাস্তা কফি বিনের দাম জুলাইয়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। প্রতি টন রোবাস্তা কফি টনপ্রতি ৪ হাজার ডলারের ওপরে বেচাকেনা হয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ফিউচার মার্কেটে অ্যারাবিকা কফি বিন পাউন্ডপ্রতি ২ ডলারের ওপরে বেচাকেনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাপানের ইউসিসি উয়েশিমা কফি আমদানি ব্যবস্থাপক কোসুকে নাকামুরা বলেন, ‘এর আগে রোবাস্তা কফির দাম টনপ্রতি ২ হাজার ডলারই ছিল অনেক বেশি। এক-দুই বছর আগেও কফির বর্তমান দাম ছিল অকল্পনীয়।’ তিনি জানান, বর্তমানে কফির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার বেশকিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামে এ বছর এল নিনোর কারণে উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব।
তবে রাবোব্যাংকের কৃষিপণ্যের বাজার গবেষণার প্রধান কার্লোস মেরা এ বিষয়ে বলেন, ‘ভিয়েতনামে কফি উৎপাদন পূর্বাভাসের তুলনায় শুধু ৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্বব্যাপী কফির মজুদ কমার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে পূর্ববর্তী বছরগুলোয় ব্রাজিলে নিম্নমুখী উৎপাদন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কফির দাম বাড়ার আরেকটি কারণ পরিবহন বিলম্ব। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় লোহিত সাগরে হামলার আশঙ্কায় পরিবহন রুট পরিবর্তনের কারণে এ খাতে খরচও বেড়েছে।’
কার্লোস মেরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফরেস্টেশন রেগুলেশনের (ইইউডিআর) মূল লক্ষ্য কোনো ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে যেন বন ধ্বংস না হয় তা নিশ্চিত করা। ইউরোপীয় ক্রেতারা এ বিধি কীভাবে মেনে চলবে তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। কোম্পানিগুলোকে তা মেনে চলতে হলে বছর শেষে ইইউডিআর বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে হবে। তা করতে কোম্পানিগুলোর মজুদও বাড়ানো প্রয়োজন। এসব কারণে বিশ্বব্যাপী কফির দাম বাড়ছে। চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত তা অস্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্রাজিলে আগামী বছর উৎপাদন বাড়তে পারে, যা দাম কমার পেছনে ভূমিকা রাখবে।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us