চীনে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণগ্রহণ বাড়ছে – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

চীনে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণগ্রহণ বাড়ছে

  • ২২/০৮/২০২৪

অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপগুলোকে কোটি কোটি ডলারের ঋণসহায়তা দিচ্ছে চীন। বন্ধক রাখার মতো সম্পদ নেই, এমন ছোট কোম্পানিগুলোর জন্যও ঋণ পাওয়ার রাস্তা সহজ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। ঋণ পেতে পেমেন্ট, ট্রেডমার্ক ও ভৌগোলিক নির্দেশকের (জিআই) মতো বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বন্ধ রাখছে কোম্পানিগুলো। বিগত কয়েক বছরে চীনে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।
চীনের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিএনআইপিএ) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বন্ধক রেখে ৪১ হাজার ৯৯০ কোটি রেনমিনবি ঋণ দেয়া হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের পুরো বছরে এ ধরনের ঋণ ৭৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ হাজার ৪০০ কোটি রেনমিনবিতে পৌঁছেছিল।
পশ্চিমা দেশগুলোয় সাধারণত আর্থিক সমস্যায় পড়েছে, অথচ বন্ধক রাখার মতো মূল্যবান সম্পদ নেই, এমন কোম্পানিকে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির বিনিময়ে ঋণ দেয়া হয়।
চীনে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাত খারাপ সময় পার করছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকারের দুর্বল আর্থিক অবস্থা করপোরেট ব্যালান্স শিটকে দুর্বল করেছে। এতে ঋণ দেয়ার আগ্রহও কমেছে ব্যাংকগুলোর। দ্য এশিয়া গ্রুপ কনসালট্যান্সির চীনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হান শেন লিন বলেন, ‘চীনের শেয়ারবাজার স্থির থাকায় এবং যৌথ মূলধনি ব্যবসায় কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় ঋণ প্রদানে ছোট ব্যাংকগুলো এগিয়ে আসছে। এতে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তিকে বৈধ মূলধন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া সরকারের জন্য সহজ হয়েছে।’ লিন বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৌশলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে অর্থায়নের অংশ হিসেবে এ স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও এতে খেলাপি ঋণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।’
চীনে ১৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানবহির্ভূত খাতে নতুন ইস্যু হওয়া ঋণের পরিমাণ কমেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির বিপরীতে ঋণপ্রদান বাড়ানো ছোট উদ্ভাবনী কোম্পানিগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশলের অংশ। সিএনআইপিএ ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের ঋণ প্রদানে উৎসাহিত করতে সুদহারে ভর্তুকি সহায়তা দিচ্ছে। সংস্থার প্রধান শেন চাংয়ু বলেন, ‘ছোট ও ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোর উন্নতির জন্য প্রারম্ভিক ও বৃদ্ধির পর্যায়ে যথেষ্ট আর্থিক সহায়তা করা প্রয়োজন।’
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দেশটি ২০২৩ সালে ৯ লাখ ২১ হাজার পেটেন্ট এবং প্রায় ৪৪ লাখ ট্রেডমার্ক অনুমোদন করেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।
ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক গাও হুয়াশেন বলেন, ‘এ ধরনের ঋণের”প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল প্রযুক্তির স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করা। বাস্তবে এ নীতি আরো ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা যায়।’” তিনি বলেন, ‘ঋণ পরিশোধ না হলে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির মতো অদৃশ্য সম্পদ বিক্রির নিলাম বাজার সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে।’
বেইজিং গুওক্সিন্ডা ডাটা টেকনোলজি চীনের ব্যাংক ও আঞ্চলিক সরকারের জন্য রিয়েল এস্টেট প্রকল্প মূল্যায়ন করে থাকে। কোম্পানি জানিয়েছে, তারা প্রতিশ্রুত সুদের হারের কারণে এই স্কিমের অধীনে ৮০ লাখ রেনমিনবি ধার করেছে। তারা এ অর্থ নিজেদের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহার করবে।
তবে সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রযুক্তিবহির্ভূত অন্যান্য খাতের নাজুক কোম্পানিগুলোও এ ঋণ সুবিধা ব্যবহার করছে। উত্তর-পূর্ব হেইলুংজিয়াং প্রদেশের ধান প্রক্রিয়াকরণ গ্রুপ ইচুন সিয়ানহে এগ্রিকালচার টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি করোনা মহামারী ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নগদপ্রবাহের সমস্যায় আছে। অথচ কোম্পানিটিও এ ঋণ সুবিধার আওতায় ১ কোটি রেনমিনবি ঋণ নিয়েছে। (খবর: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস)

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us