ভবিষ্যতে জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় সিঙ্গাপুরের জেন-জি প্রজন্মের সদস্যরা অনেকটাই পিছিয়ে। তাদের বেশির ভাগেরই ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, জীবন বীমা, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো আর্থিক পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকের (ইউওবি) জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জেনারেশন জেড বা জেন-জি বলা হয়, যাদের জন্ম ১৯৯৭-২০১২ সালের মধ্যে। অর্থাৎ এ প্রজন্মের সদস্যদের বয়স ১২-২৭ বছর। ইউওবি সম্প্রতি এক হাজার জেন-জি কিশোর-তরুণের মধ্যে জরিপ পরিচালনা করেছে। উত্তরদাতাদের মধ্যে ১৮-২৫ বছর বয়সীর এক-চতুর্থাংশ জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় তাদের সঞ্চয়, জীবন বীমা, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো আর্থিক পরিকল্পনা নেই। অবশ্য ইউওবি ও সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুরের মৌলিক আর্থিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, জরুরি তহবিল হিসেবে তিন-ছয় মাসের খরচ মেটানো যাবে, এ পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা ভালো। তবে মৃত্যু, পঙ্গুত্ব বা গুরুতর অসুস্থতার জন্য জীবন বীমা, আয়ের অন্তত ১০ শতাংশ বিনিয়োগ এবং উইল ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের নমিনি নির্ধারণ করার পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
‘আসিয়ান কনজিউমার সেন্টিমেন্ট স্টাডি ২০২৪’ নামে ইউওবির ওই জরিপে ১৮-৬৫ বছর বয়সী মোট পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। জরিপের ফলাফল বলছে, যতগুলো প্রজন্মের মধ্যে জরিপ চালানো হয়েছে, তাদের মধ্যে জেন-জি অর্থনৈতিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে। উত্তরদাতা জেন-জিদের প্রায় ২৬ শতাংশ বলেছে, তারা মৌলিক আর্থিক নির্দেশনার একটিও পূরণ করেনি।
জরিপে বলা হয়, চাকরি বা আয়ের ক্ষেত্রে জেন-জি প্রজন্ম অন্যান্য প্রজন্মের তুলনায় নতুন। ফলে তাদের আয়ের পরিমাণও কম। তাছাড়া তাদের বিয়ে বা আবাসনের মতো বড় খরচের ধাক্কার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এজন্য সঞ্চয়ের বিষয়টি তারা হয়তো বিবেচনায় নিতে পারছে না। কিন্তু একেবারেই চেষ্টা না করা বেশ উদ্বেগের।
জরিপে উত্তরদাতাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ জানিয়েছে, তারা মৌলিক আর্থিক পরিকল্পনার তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছে; ৩৭ শতাংশ দুটি, ৩৫ শতাংশ একটি পূরণ করেছে ও ১৮ শতাংশ একটিও পূরণ করেনি। অন্যদিকে ১৯৪৬-৬৪ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া বেবি বুমার্সদের ৬০ শতাংশ জানান, তাদের অন্তত তিন মাস খরচ করার মতো সঞ্চয় আছে। আর জেন-এক্স (জন্ম ১৯৬৫-৮০ সালের মধ্যে) জানান, তাদের কিছুটা সঞ্চয় আছে।
অন্যান্য প্রজন্মের তুলনায় জেন-জিদের বীমা করার প্রবণতা সবচেয় কম বলে জরিপে উঠে আসে। তবে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ১৮-৪১ সাল বয়সীদের মধ্যে বেশি প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক জানিয়েছে, তারা (উইল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের) নমিনি নির্ধারণ করেছে। (খবর: স্ট্রেইটস টাইমস)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন