মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যৌথ মূলধনি বিনিয়োগ বেড়েছে ২০৬% – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যৌথ মূলধনি বিনিয়োগ বেড়েছে ২০৬%

  • ১৭/০৮/২০২৪

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যৌথ মূলধনি বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। গত মাসে এ অঞ্চলে যৌথ মূলধনি বিনিয়োগ ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ২০৬ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে এ পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৬০ শতাংশ বেশি।
চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ার বিষয়টি অঞ্চলটির সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে বিনিয়োগের পরিবেশ অক্ষুণ্ন আছে। মধ্যপ্রাচ্যের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগ সহায়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ামডার মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তি সংখ্যা ৩৮-এ স্থির আছে।
এদিকে সেপ্টেম্বর নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বর্ধিত সুদহার কমাতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় জুলাইয়ে উদ্যোক্তা ঋণ থেকে মোট বিনিয়োগের ১ শতাংশের কম এসেছে। বোঝা যাচ্ছে, ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোয় অর্থায়নের ক্ষেত্রে যৌথ মূলধনি বিনিয়োগ প্রাথমিক উৎসে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কিছুদিন আগে তৈরি হওয়া বিনিযোগ খরাও কেটে গেছে।
মিসর যৌথ মূলধনি বিনিয়োগ প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে জুনে চারটি চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল। জুলাইয়ে সাতটি চুক্তির মাধ্যমে উৎসটি থেকে বিনিয়োগ এসেছে ১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু ফিনটেকের স্টার্টআপ এমএনটি-হালানই বিনিয়োগ করেছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ১২টি স্টার্টআপ ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবে বিনিয়োগ কমে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে নেমে গেছে। এক্ষেত্রে ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে দেশটিকে ছাড়িয়ে গেছে ওমান।
অঞ্চলটিতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে ফিনটেক। ১৬টি স্টার্টআপের মাধ্যমে ১৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়েব ৩.০ পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও দুটি স্টার্টআপে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার অর্থায়ন পেয়েছে। ডিপটেক ও ক্লিনটেক খাতেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়েছে, এর মধ্যে অধিকাংশ অর্থায়ন হয়েছে ৪৪.০১ ও ইন্টেলম্যাটিক্সে।
বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ই-কমার্স তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি। তবে ছয়টি স্টার্টআপে ১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে এ খাত।
এ পরিসংখ্যানগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বৈশ্বিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে এ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উপযোগিতার বিষয়টিরও প্রতিনিধিত্ব করে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইউএইতে জুলাইয়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। বিটওসিসকে অধিগ্রহণ করেছে ভারতের কয়েনডিসিএক্স। এছাড়া মুলার অ্যান্ড ফিলিপ গ্রুপ পাওয়ার লিগ গেমিংকে ও মাজার্না কিনে নেয় ল্যাবলেবকে।
সাধারণভাবে গ্রীষ্মকালে ছুটি ও গরম আবহাওয়ার জন্য বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে অর্থায়নের গতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আবার বাড়তে পারে। সে সময় অনেক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাস দিয়েছেন ভেঞ্চার ডাটা প্লাটফর্ম ম্যাগনিটের সিইও ফিলিপ বাহোশি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বিনিয়োগ আরো বাড়তে পারে। এছাড়া সুদহার কমানো হলে সেটিও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’ (খবর: আরব নিউজ)

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us