হারিয়ে যাচ্ছে ভারতের ইরানি ক্যাফে গুলো – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

হারিয়ে যাচ্ছে ভারতের ইরানি ক্যাফে গুলো

  • ১৩/০৮/২০২৪

মজাদার রুটি ও মাখনের তৈরি বান মাস্কা কিংবা ভাজা সামোসার ক্রিমযুক্ত চাসহ সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় স্ন্যাক্সগুলো ভারতের পার্সি ক্যাফেগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন ইরান থেকে পার্সিয়ান অভিবাসীদের ভারতে আগমন ঘটে সেসময় মূলত মুম্বাই ও পুনের মতো শহরগুলোয় এই ক্যাফেগুলোর যাত্রা শুরু হয়। ইরানি ক্যাফে নামে পরিচিত এই আইকনিক রেস্তোরাঁগুলো তাদের ঐতিহ্যবাহী মার্বেলের টেবিল, পুরোনো ধাঁচের ঘড়ি, চেকার্ড মেঝে এবং স্বতন্ত্র মেনু নিয়ে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এসব ক্যাফে এখন বিলুপ্তির পথে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
এই রেস্তোরাঁগুলো এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে, এর প্রভাব ভারতের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। লন্ডনের অন্যতম স্বীকৃত রেস্তোরাঁ চেইন ঢিশুম এই ক্যাফেগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যাত্রা শুরু করে। ভারতের দক্ষিণের শহর হায়দরাবাদে ক্যাফেগুলো কয়েক দশক ধরে স্থানীয় সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠে। তবে বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সত্ত্বেও এই শহরের ক্যাফেগুলো পুনে ও মুম্বাইয়ের ক্যাফেগুলোর মতোই হারিয়ে যেতে বসেছে। এজন্য ক্যাফের মালিকরা দায়ী করছেন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ফাস্টফুড রেস্তোরাঁগুলোর প্রতিযোগিতা এবং ভোক্তাদের স্বাদ পরিবর্তনকে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে হায়দরাবাদ ইরানি বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করে। যার ধারাবাহিকতায় এখনও বর্তমানে মুম্বাইয়ের পরে হায়দরাবাদে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইরানি ক্যাফে রয়েছে।
ইরানি ক্যাফে দ্য গ্র্যান্ড হোটেলের মালিক জলিল ফারুক রুজ বলেন, দুই দশক আগে যেখানে ৪৫০টি ক্যাফে ছিল, এখন সেখানে মাত্র ১২৫টি ক্যাফে অবশিষ্ট রয়েছে। রুজ বলেন, আমরা একসময় দিনে আট হাজার থেকে ৯ হাজার কাপ চা বিক্রি করতাম। এখন আমরা দিনে মাত্র চার হাজার কাপ বিক্রি করি।
বেশিরভাগ ইরানি ক্যাফে জায়গা ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হয়। তবে বর্তমানে হায়দরাবাদে রিয়েল এস্টেটের দাম বৃদ্ধি অনেক রেস্তোরাঁ মালিককে অন্য কাজে যেতে বাধ্য করেছে।
Source : BBC

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us