চীনা শীর্ষধনীর তালিকায় উঠে এলেন ই-কমার্স জায়ান্ট টেমুর প্রতিষ্ঠাতা কলিন হুয়াং। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছিলেন বোতলজাত পানির টাইকুন ও নংফু স্প্রিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ঝোং শানশান। এবার কলিন হুয়াংয়ের কাছে স্থান হারাতে হলো তাকে।
কলিন হুয়াংয়ের কর্মজীবন বেশ বিস্তৃত, সমৃদ্ধ তার অভিজ্ঞতার ঝুলি। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। চীনে গুগলের পরিষেবা সম্প্রসারণে কলিন হুয়াংয়ের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। চীনে নতুন প্রজন্মের বিলিয়নেয়াররা মূলত প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সম্পদ তৈরি করেছেন। কলিন হুয়াংও সে ধারায় রয়েছেন, তার হাতে রয়েছে একাধিক অনলাইন ব্যবসা।
গুগল ছাড়ার পর পিনদুদুয়ো নামের ই-কমার্স প্লাটফর্ম চালু করেন কলিন। ২০২১ সালে তার সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ১৫০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু অনেক ‘কভিড বিলিয়নেয়ারের’ প্রায় এক বছরের ব্যবধানে সম্পদের পরিমাণ ৮৭ শতাংশ হ্রাস পায়। কলিন হুয়াংয়ের ব্যবসার পতনের পেছনে ছিল চীনের কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী শ্লথ প্রবৃদ্ধি।
বর্তমান সম্পদ ও সাফল্যের বেশির ভাগই টেমু থেকে পেয়েছেন কলিন হুয়াং। টেমু হলো অনলাইনভিত্তিক ডিসকাউন্ট শপিং প্লাটফর্ম, যা চীনের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রধান প্রধান অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। ২০২২ সালে কলিন হুয়াংয়ের পিপিডি হোল্ডিংস কোম্পানিটি চালু করে। বছর দুয়েকের মধ্যে এটি অ্যামাজনের মতো প্লাটফর্মের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উল্লেখযোগ্য একটি স্থান দখল করে নিয়েছে।
টেমুর ব্যবসায়িক মডেল প্রধানত চীনা বিক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। এ প্লাটফর্মে বিক্রেতারা কোনো রকম মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি বিশ্বজুড়ে গ্রাহকের কাছে পণ্য পাঠায়। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় চীনের তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ টেমুর মুনাফা বজায় রাখাকে সহজ করে। সংস্থাটি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়েও ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান কিছু ইভেন্টে বড় অংকের বিজ্ঞাপন দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায়ও আসে টেমু।
কভিড-পরবর্তী চীনা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সংকট। এ সময় অর্থনীতি শ্লথ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে টেমুর অতিরিক্ত ছাড়যুক্ত পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সেই সঙ্গে প্লাটফর্মের ক্রমাগত অফার ও রিওয়ার্ড গ্রাহকদের ঘন ঘন কেনাকাটা করতে উৎসাহিত করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, টেমু গ্রাহকদের আচরণ পরিবর্তনের সুযোগ গ্রহণ করেছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষ বিলাস পণ্য থেকে সরে আসছে, যা পুরনো ব্র্যান্ড শপগুলোর বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে। সেখানে টেমুর মতো সাশ্রয়ী মূল্যের অনলাইন শপের দিকে বেশি ঝুঁকছেন ক্রেতারা। এ প্রবণতা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিষ্ঠিত বাজারেও দেখা যাচ্ছে। এসব দেশে টেমু খুবই জনপ্রিয়।
এ বিষয়ে গবেষণা সংস্থা গ্লোবালডাটা রিটেলের খুচরা বাজার বিশ্লেষক নীল সন্ডার্স বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষ সঠিক মূল্যে ভালো মানের পণ্য খুঁজছে। তাই টেমুর মতো ভ্যালু রিটেইলারদের জন্য এখন ঊজ্জ্বল সময়।’
তিনি জানান, ক্রেতারা কোনো প্লাটফর্মের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠলে ভবিষ্যতে যদি দাম সামান্য বাড়ানো হয়, তবে তারা তা মেনে নিতে পারেন। এখন টেমু যতটা সম্ভব বাজার দখল করার চেষ্টা করছে।
তবে কম দামে পণ্য সরবরাহ খুব বেশি সময় টেমু ধরে রাখতে পারবে না বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ গ্রাহকসেবা, ভুল পণ্য বিবরণ ও সরবরাহে দেরির জন্য এরই মধ্যে সরবরাহকারীদের বড় অংকের জরিমানা দিতে হয়েছে। তাই প্রতিবাদের মুখেও পড়েছে টেমু। চীনের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অঞ্চলে একাধিক নিয়ন্ত্রক আইনের হুমকিতেও রয়েছে কোম্পানিটি। বিশেষ করে ইইউর আমদানি কর ভবিষ্যতে টেমুর জন্য বর্তমান দামে পণ্য বিক্রি কঠিন করে তুলবে। (সূত্র: ইউরো নিউজ)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন