জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন ও বিক্রিতে বেশি মনোযোগ ব্রিটিশ জায়ান্ট শেলের। এ খাতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকে পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি আয় করেছে কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে শেল।
শেল ইউরোপের বৃহত্তম জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানি। জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে আয় দাঁড়িয়েছে ৬৩০ কোটি ডলারে। এমন আয়ের পর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৩৫০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার পুনঃক্রয় করবে শেল। জানুয়ারি-জুন দুই প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ার পুনঃক্রয়ে কোম্পানির খরচ হবে ৭০০ কোটি ডলার।
তবে শেলের আয়ের ঊর্ধ্বগতি পরিবেশবাদীদের ক্ষুব্ধ করেছে। কেননা কোম্পানিটি বৈশ্বিক গ্যাস ব্যবসায় ধীরে ধীরে আধিপত্য তৈরি করছে। কিন্তু তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণ করে এমন জ্বালানিতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের আরেক জ্বালানি কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ২৮০ কোটি ডলার মুনাফা অর্জনের কথা জানিয়েছে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। এর পর পরই কোম্পানিটি মেক্সিকো উপসাগরে একটি জ্বালানি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছে।
জ্বালানি নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থা গ্লোবাল জাস্টিস নাউ বলছে, শেল ও বিপি ২০২৩ সালে যৌথভাবে ৩ হাজার ১২০ কোটি পাউন্ড মুনাফা করেছে। অর্থের এ অংক হারিকেন বেরিলের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছয় দেশের মোট জিডিপির চেয়েও বেশি।
সংগঠনটির জলবায়ু কর্মী ইজি ম্যাকিন্টোশ বলেন, ‘শেলের মুনাফা জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থনীতিতে মিশে থাকা লজ্জাজনক বৈষম্যকে সামনে এনে দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ক্যারিবীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা হারিকেন বেরিলের আঘাতে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ এখনো পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। একই সময়ে ধনী শেয়ারহোল্ডার এবং জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানি শেলের কর্তাব্যক্তিরা মুনাফা উপভোগ করছেন। অথচ এ বিপর্যয় তৈরিতেও তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে।’
জানা গেছে, চলতি বছর জলবায়ু প্রভাব মোকাবেলাসংক্রান্ত একটি প্রতিশ্রুতি সংশোধন করছে শেল। চলতি দশক শেষে কোম্পানিটির বিক্রি করা জ্বালানির কার্বন নিঃসরণের ঘনত্ব কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ১৫-২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, আগে যা ছিল ২০ শতাংশ। (সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন