দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) উৎপাদনে নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। চীনা নির্মাতা বিওয়াইডিসহ বিশ্বের নামি কোম্পানিগুলো সম্প্রতি এ অঞ্চলের নীতি সুবিধা ও সস্তা শ্রম কাজে লাগিয়ে কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইলোন মাস্ক মালিকানাধীন টেসলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা থাকলেও সম্প্রতি তা থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
থাইল্যান্ড ও অন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোয় ইভি প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে টেসলা। থাই নিউজ পোর্টাল দ্য নেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বর্তমানে চার্জিং পরিষেবা বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই গাড়ি কারখানা স্থাপনের বদলে চার্জিং পরিষেবার দিকে মনোযোগ বাড়াতে চায়।
ইভি কোম্পানিগুলোকে আর্কষণ করতে সম্প্রতি বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছে থাইল্যান্ড। এর মাঝে টেসলার পরিকল্পনায় কাটছাঁটের এ খবর এল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি থাই সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে, কারখানা স্থগিত রাখার এ পরিকল্পনা শুধু থাইল্যান্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় কারখানা স্থাপন স্থগিত রাখছে কোম্পানিটি।
সম্প্রতি টেসলার শীর্ষ পদগুলোয় বড় ধরনের কাটছাঁট হয়েছে। এর পর পরই থাইল্যান্ডে বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করেছে কোম্পানিটি। এর প্রভাব এশিয়া ও এর বাইরের বিনিয়োগ অঞ্চলেও বিস্তৃত হয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, টেসলা বর্তমানে চার্জিং স্টেশন তৈরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। কোম্পানিটি চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির বিদ্যমান কারখানায় উৎপাদন চালিয়ে যাবে। তবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা অন্য কোথাও কারখানার পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হবে না।
এদিকে বিনিয়োগ স্থগিত সংক্রান্ত প্রতিবেদনটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক মন্ত্রণালয় এমআইটিআই। তারা বলছে, প্রতিবেদনটি নামহীন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে এবং এটি টেসলার আনুষ্ঠানিক বিবৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না।
এমআইটিআই আরো বলছে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে নেয়া বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার শিল্প সংস্কার বা বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করবে না।
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরে দেশটিতে কোম্পানির সদর দপ্তর ও পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল টেসলা। তখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, টেসলার বিনিয়োগ দেশটিতে হাজার হাজার উচ্চ পদের চাকরি তৈরি করবে।
একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অধীনে আমদানি শুল্ক ছাড়াই বিদেশে তৈরি গাড়ি মালয়েশিয়ায় বিক্রি করার অনুমতি পায় টেসলা। একই সঙ্গে স্থানীয় অংশীদার থাকার বাধ্যবাধকতা এবং নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বুমিপুটেরা ইকুইটির প্রয়োজনীয়তা থেকেও ছাড় দেয়া হয়েছিল।
এদিকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফার অংকে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে টেসলা। এ সময় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার চাহিদা পুনরুদ্ধারে মূল্যছাড় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে অতিব্যয়ের প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির সামগ্রিক আয়ে। এ নিয়ে টেসলার গাড়ি সরবরাহ পরপর দুটি প্রান্তিকে কমেছে। একদিকে প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অন্যদিকে সস্তা মডেলের গাড়ি খুব বেশি না থাকায় টেসলার চাহিদা কমেছে। চীনে তৈরি টেসলার ইভি ইউরোপ ও অন্যান্য স্থানেও রফতানি করা হয়। গত বছরের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর রফতানিও কমেছে। অন্যদিকে বিওয়াইডি ও অন্যান্য চীনা অটোমেকারদের বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। (সূত্র: বিজনেস টাইমস)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন