অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণের সুবিধা পাবে সৌদি ব্যাংক – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণের সুবিধা পাবে সৌদি ব্যাংক

  • ০৭/০৮/২০২৪

উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সৌদি সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য নীতি ব্যাংক খাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন খাত বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তারা বলছেন, বৈচিত্র্যকরণ নীতির কারণে ব্যাংকগুলোর আয় ও গ্রাহকের সংখ্যা বাড়বে।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ও কমনওয়েলথভুক্ত স্বাধীন দেশগুলোর ব্যাংক প্রসঙ্গে গবেষণা সংস্থা মুডি’স অ্যানালাইটিকস বলছে, ২০২০-২৩ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব ও ওমানে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের সম্প্রসারণে সর্বনিম্ন অস্থিরতা দেখা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারের সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সৌদি আরব শীর্ষ তিনের মধ্যে স্থান পেয়েছে।
মুডি’স রেটিংয়ের কো-ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদলেন কুজনেতসভ বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরাক, কাজাখস্তান ও আজারবাইজানে জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর সরকার বাণিজ্য বহুমুখীকরণে তহবিল সরবরাহ করছে।
তিনি আরো বলেন, ‘অন্যান্য ব্যাঘাত বাদ দিলে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে প্রবৃদ্ধি আগামী বছরগুলোয় ৩-৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।’
সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য হলো নিওমের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে আবাসন ও পর্যটন খাতকে বাড়িয়ে জ্বালানি তেলনির্ভরতা কমানো। ব্যাংকগুলো দেশটির অর্থনীতির তুলনায় ছোট হলেও জ্বালানি তেলবহির্ভূত উদ্যোগগুলোকে ক্রমবর্ধমান হারে অর্থায়ন করছে এবং তাদের উচ্চ মানের ঋণ রয়েছে।
আমানত বৃদ্ধির ধীরগতি সৌদি অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল বাজার তহবিলের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক চাপের সময় সরকারি ঋণ দেয়ার সামর্থ্য এবং চলমান বৈচিত্র্যকে ব্যাংকগুলো ক্রমবর্ধমান হারে সমর্থন দিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরব চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করে জিসিসি বন্ড বাজারের নেতৃত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে দেশটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পগুলোয় অর্থায়নে ঋণ বাজারকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করেছে।
কাজাখস্তান ও আজারবাইজানসহ সিআইএস দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ জিসিসিভুক্ত দেশের সরকারগুলো উচ্চাভিলাষী বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে হাইড্রোকার্বনের ওপর তাদের নির্ভরতা কমাতে কাজ করছে।
মুডি’সের প্রতিবেদন মতে, জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলো প্রায়ই আবাসন, নির্মাণ, বাণিজ্য ও পরিষেবাগুলোর পাশাপাশি তেলবহির্ভূত ছোট খাতগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়।
এ ধরনের অর্থনীতিতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বৃহৎ কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় সাধারণত দেশীয় ব্যাংকগুলোর পরিবর্তে বৈশ্বিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। এতে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ দেয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে দেশীয় ব্যাংকগুলোর ঋণ পোর্টফোলিওগুলো কয়েকটি বৃহৎ সংস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাদের আমানতের ভিত্তিগুলোও একইভাবে কেন্দ্রীভূত হয়।
অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ বৃহৎ প্রকল্পে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর পরিবর্তে সরকার এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগগুলোর দ্বারা অর্থায়ন করা হয়। জিসিসিভুক্ত দেশগুলোয় ধনী সরকার ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর উপস্থিতি দেশীয় ব্যাংক ঋণের চাহিদা আরো কমিয়ে দেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ অর্থনীতিগুলো বৈচিত্র্যময় হওয়ায় ব্যাংকগুলো বিভিন্ন দিক থেকে উপকৃত হবে। তারা তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রসারিত করবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করবে। কারণ জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতগুলো জ্বালানি তেল খাতের তুলনায় আরো বেশি স্থিতিশীল হয়। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল হয় এবং জনসম্পদ বাড়ে।
সৌদি ব্যাংকগুলো তাই দেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সরকারি উদ্যোগ ও শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থা সৌদি ব্যাংকগুলোকে এক্ষেত্রে সমর্থন করে।
Source: আরব নিউজ।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us