চলতি দশকের শেষ নাগাদ আফ্রিকার বড় কয়েকটি দেশে সবুজ অর্থনীতির ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এতে তৈরি হতে পারে লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ। উন্নয়ন সংস্থা এফএসডি আফ্রিকা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্টলিস্টের গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ অর্থনীতির হাত ধরে ২০৩০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে ৩৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
‘আফ্রিকার কর্মসংস্থানে সবুজ অর্থনীতির সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ শতাংশ কর্মসংস্থান হবে অফিসকেন্দ্রিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে। কর্মসংস্থানের নতুন এ উল্লম্ফনের কারণে আফ্রিকায় ব্যাপক প্রসার ঘটবে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা—এ পাঁচ দেশের পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ছয় বছরে এসব দেশের ২০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে সবুজ অর্থনীতিকেন্দ্রিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ শতাংশ কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির প্রয়োজন পড়বে। ৩০ শতাংশ কাজের জন্য থাকতে হবে ‘বিশেষায়িত জ্ঞান’, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সনদ কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এছাড়া ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান তৈরি হবে প্রশাসনিক পদে।
সমীক্ষায় পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে অদক্ষ শ্রম আরো স্থিতিশীল হবে এবং ঊর্ধ্বমুখী গতিশীলতার সুযোগ থাকবে।
শর্টলিস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পল ব্রেলফ বলেন, ‘এটি প্রথম প্রতিবেদন, যেখানে সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে মানুষের কর্মশক্তি ও প্রতিভাকে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর গবেষণায়ও এটা দেখা গেছে, সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তরের ফলে লাখ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে, প্রায় ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে সৌরশক্তি খাতে চাকরি হবে ১৭ লাখ। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও ইথিওপিয়ায় এ খাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। লাখ লাখ কর্মসংস্থান হবে কৃষিতেও। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি চাকরি হবে ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির কল্যাণে।
সবুজ অর্থনীতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এসব দেশের নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, এটি”আফ্রিকার অর্থনীতি ও পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য একটি স্থিতিশীল শ্রমবাজার এবং টেকসই সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
অনেক বিনিয়োগকারী আফ্রিকার দেশগুলোয় বিনিয়োগ করাকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। এ কারণে আফ্রিকার দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারছে না। বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হয়, তার মধ্যে কেবল ৩ শতাংশ পায় আফ্রিকার দেশগুলো।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) ও আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, জলবায়ু ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ অন্তত দ্বিগুণ করার মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে হবে।
এফএসডি আফ্রিকার ডেভেলপমেন্ট ইমপ্যাক্ট বিভাগের পরিচালক কেভিন মুনজাল বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আপনার দেশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মৌলিক দক্ষতাসম্পন্ন লোকবল থাকতে হবে।’ (সূত্র: গার্ডিয়ান)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন