ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতলে শুল্ক বাধা ঠেকাতে প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতলে শুল্ক বাধা ঠেকাতে প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন

  • ৩০/০৭/২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য খানিকটা বেদনাদায়কই ছিল। ওই সময় ট্রাম্প প্রশাসনের দেয়া বড় অংকের শুল্কের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অঞ্চলটির অর্থনীতি। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনে ব্রাসেলস আগেভাগে কৌশল ঠিক করে রেখেছে। এফটির এক প্রতিবেদন অনুসারে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হলে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দেবে ইইউ। ওই প্রস্তাব সফল না হলে নতুন শুল্ক আরোপ করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে ইউরোপ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রার্থী হওয়ার পর থেকে শুল্ক বাধার বিষয়টি ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের জন্য মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা এরই মধ্যে সাবেক এ প্রেসিডেন্ট ইইউতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে রফতানি থেকে বার্ষিক ১৫ হাজার কোটি ইউরো হারাবে অঞ্চলটি।
ইইউর আলোচনাকারীরা ট্রাম্প দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা করছেন। যদি তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবে অফিসের বসার আগেই ইইউ কোন মার্কিন পণ্য বেশি পরিমাণে কিনতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করবেন তারা। আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ শুল্ক প্রয়োগ করলে ইউরোপিয়ান কমিশনের বাণিজ্য বিভাগ পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তারা এখন আমদানির তালিকা তৈরি করছে, যেখানে নির্দিষ্ট পণ্য ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শুল্ক বাধা পেতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে ইইউর জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেখাতে চাই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যা নয়, বরং অংশীদার। আমরা চুক্তিতে যাওয়ার চেষ্টা করব। যদি শুল্ক বাধা আসে আমরা আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত। আমরা কোনো ভয় পাব না।’
২০১৭-২১ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুল্ক বাধার কারণে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য উদ্বৃত্তের সুবিধা পায় যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৮ সালে ইইউ থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ৬৪০ কোটি ইউরোর শুল্ক প্রবর্তন করা হয়। এর বিপরীতে ২৮০ কোটি ইউরোর শুল্ক আরোপ করে ইইউ।
ব্রাসেলসের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে পানীয়, হার্লে-ডেভিডসন মোটরসাইকেল ও পাওয়ার বোট, এসব পণ্যে উচ্চ শুল্ক দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায় তারা। বর্তমানে জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে একটি অস্থায়ী চুক্তির কারণে এসব পণ্যে শুল্ক স্থগিত রয়েছে।
ইইউ বাণিজ্য কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস জানান, উভয় পক্ষ অতীতের বাণিজ্য সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পারবে বলে আশাবাদী তিনি। সঙ্গে এও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ কৌশলগত মিত্র, বিশেষ করে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করি।’
সতর্কতা জানিয়ে ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস বলেন, ‘আমরা শুল্ক দিয়ে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করেছি এবং প্রয়োজনে আবার একইভাবে স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত।’
এ প্রসঙ্গে দেশগুলোর মধ্যে ‘সমবায় পদ্ধতিতে’ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইইউর বাণিজ্য কমিশনার।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে ইইউ একাধিক পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমিয়ে আনে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সুবিধা দেয়। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি ২০১৬ সালের ১১ হাজার ৪০০ কোটি ইউরো থেকে ২০২০ সাল নাগাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৫ হাজার ২০০ কোটি ইউরোয়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে মস্কোর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর পরিমাণে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে ইইউ। তা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে ইইউর বাণিজ্য ঘাটতি স্থিতিশীল, যা ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ইউরোয় পৌঁছেছে।
এদিকে ইইউর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো কঠিন, কারণ তারা ইইউর তুলনায় কম মূল্যের পণ্য রফতানি করে। যুক্তরাষ্ট্র রফতানি করে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ধাতব পদার্থ ও কৃষিপণ্য। অন্যদিকে ইইউর প্রধান রফতানি পণ্য ফার্মাসিউটিক্যালস, গাড়ি এবং দামি খাবার ও পানীয়। এছাড়া ইইউর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও কম, একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে ভোক্তা চাহিদা কমছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জ্যান হ্যাটজিয়াস সম্প্রতি এক পূর্বাভাসে জানান, নতুন শুল্কযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইইউর ক্ষতি করবে বেশি। এতে ইইউর জিডিপি কমবে ১ শতাংশ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জিডিপি কমবে দশমিক ৫ শতাংশ। তবে শুল্কযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা ইইউর দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
অবশ্য মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে খানিকটা আশা দেখছেন ব্রাসেলসের নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তিত থাকা ভোটারদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে চাইবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এবার যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা আরো ভালোভাবে প্রস্তুত।’

Source : রয়টার্স

 

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us