জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর গতকাল বৃহস্পতিবার কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সকালে জলবায়ু কর্মীরা বিমানবন্দরের রানওয়েতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ায় কর্তৃপক্ষ বিমান ওঠা-নামা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। পরে বিমানবন্দরটি সচল হয়েছে।
জার্মানির ব্যস্ততম বিমানবন্দরটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজগুলো আবার উড্ডয়ন এবং অবতরণ করতে শুরু করেছে। তবে যাত্রীদের এখনও বিমানবন্দরের জন্য যাত্রা করার আগে তাদের ফ্লাইটের পরিস্থিতি যাচাই করার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, আমরা জলবায়ু কর্মীদের টারমাক থেকে সরানোর জন্য সবকিছু করছি।
ফ্রাঙ্কফুর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব এবং ইউরোপের বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি। এর একজন মুখপাত্র বলেন, বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত ১ হাজার ৪০০টির মধ্যে প্রায় ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জলবায়ু কর্মীদের সংগঠন লাস্ট জেনারেশন জানায়, তাদের ছয় সদস্য ‘রানওয়ের চারপাশে বিভিন্ন পয়েন্টে সাইকেল এবং স্কেটবোর্ড দিয়ে পায়ে হেঁটে’ যাওয়ার আগে তারের বেড়া কেটে ফেলে। জলবায়ু কর্মীদের প্রচারিত একটি ছবিতে দেখানো হয়েছে, একজন বিক্ষোভকারী ব্যানারসহ টারমাকে বসে আছেন।
জলবায়ু কর্মীরা ২০৩০ সালের মধ্যে তেল, গ্যাস এবং কয়লার ব্যবহার বন্ধের জন্য সরকারকে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে একই ধরনের বিক্ষোভের একদিন পর বৃহস্পতিবারের প্রতিবাদের কর্মসূচি পালন করে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের পরিবেশবাদীরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের যুক্তরাজ্যভিত্তিক জলবায়ু কর্মীরা জুলাইয়ের শুরুতে জানিয়েছিল, ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং নরওয়েতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দরে অননুমোদিত প্রবেশের শাস্তি দুই বছরের কারাদ্ল দিতে চায় জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার জলবায়ু কর্মীদের পদক্ষেপটিকে বিপজ্জনক, মূর্খতা এবং অপরাধমূলক বলে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই লাস্ট জেনারেশন পরিবেশবাদী সংগঠন তৈরি হয়। নাম থেকেই স্পষ্ট, এই সংগঠনের সদস্যরা মনে করেন, চরম পরিবেশগত বিপর্যয়ের আগে তারাই শেষ প্রজন্ম। জার্মানিতে সংগঠনের সদস্যরা রাস্তা ও বিমানবন্দরের রানওয়ে অবরোধ করে তাদের প্রতিবাদ জানান।
Source : এপি
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন