তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, কমছে চিপ কোম্পানির শেয়ারের দাম – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, কমছে চিপ কোম্পানির শেয়ারের দাম

  • ১৮/০৭/২০২৪

মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক কথার পর তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় চিপ কোম্পানি টিএসএমসির শেয়ারের দাম কমতে শুরু করছে। ট্রাম্প বলেছেন যে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার জন্য দেশটির উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দেওয়া, কারণ এখন তারা কিছুই দেয় না।
ব্লুমবার্গ বিজনেসউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেখানকার মানুষদের ভালো করে জানি। তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। তাঁরা আমাদের চিপ ব্যবসার ১০০ শতাংশই নিয়ে গেছেন। আমি মনে করি, তাইওয়ানের উচিত প্রতিরক্ষার জন্য আমাদের অর্থ দেওয়া। আপনারা জানেন, একটি বিমা কোম্পানির সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। তাইওয়ান আমাদের কিছুই দেয় না।’
রয়টার্স জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় গত ২৫ জুন, তবে তা প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার।
আধুনিক চিপ তৈরিতে টিএসএমসি বেশ এগিয়ে রয়েছে। তাদের তৈরি এসব চিপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে স্মার্টফোন ও যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করা হয়। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাইওয়ানকে ঘিরে কোনো সংঘাত হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বেকায়দায় ফেলবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জাং–তাই বলেছেন যে তাঁর দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, তাইওয়ান ক্রমেই তার প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে চলেছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি তার দায়িত্বের বিষয়টি প্রকাশ করেছে।
তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে আমরা আগ্রহী। আমরা আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা বিধান করছি এবং আমাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছি।’
তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক হলো যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারীও। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তবে তাইওয়ান যাতে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় উপায় জোগাতে যুক্তরাষ্ট্র আইনের মাধ্যমে বাধ্য।
প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে তাইওয়ানের সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশটি নিজস্ব সাবমেরিন তৈরি করছে। দ্বীপদেশটি এ কথা আগেও বলেছে যে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে।
তাইওয়ানকে অবশ্য চীন তার নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে। চার বছর ধরে তাইওয়ান অভিযোগ করে আসছে যে চীনা সেনাবাহিনী তাদের লক্ষ্য করে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তাইওয়ানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার রয়েছে, যাদের ওপর বেইজিং চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্বীপটিকে নিয়ে চীনের দাবিকে তাইওয়ান সব সময় নাকচ করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কিছু মন্তব্য চীনা সরকারকে নাখোশ করেছে। ওই মন্তব্যে তিনি এমন ধারণা দিয়েছেন বলে মনে হয় যে আক্রান্ত হলে তাইওয়ানকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে।
ওয়াশিংটন ও তাইপের মধ্যে ১৯৭৯ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক সম্পর্ক নেই। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র চীনকে স্বীকৃতি দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যকার একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করে।
টিএসএমসি শেয়ার
তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর তৈরিকারক কোম্পানি টিএসএমসি। এটি চুক্তিভিত্তিতে বিশ্বের অনেক কোম্পানির জন্য চিপ তৈরি করে। এই শ্রেণিতে এটিই সবচেয়ে বড় কোম্পানি। অ্যাপল ও এনভিডিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী টিএসএমসি। আজ বুধবার সকালে তাদের শেয়ার দাম পড়ে যায় ২ শতাংশ।
মেগা ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যালেন হুয়াং বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্য একেবারে সোজাসাপটা। আমরা একে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর হিসেবে ধরে নিচ্ছি। টিএসএমসি একটি চমৎকার কোম্পানি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির তুলনায় এটি ভালো করছে।’
টিএসএমসি শত শতকোটি ডলার খরচ করে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কারখানা তৈরি করছে। এর মধ্যে তিনটি কারখানা তৈরি করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে, যেখানে মোট বিনিয়োগ হচ্ছে ৬৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে যে তাদের বেশির ভাগ উৎপাদনসক্ষমতা তাইওয়ানেই থাকবে।
তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব অস্ত্র কিনেছে, তার মধ্যে ১৯ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের অস্ত্র এখনো সরবরাহ করা হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদেরা প্রায়ই প্রতিশ্রুতি দেন যে অস্ত্রের চালান দ্রুত তাইওয়ানে পাঠানো হবে।

Source : Bloomberg

 

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us