সরবরাহ সংকটে কফির দাম বর্তমান রেকর্ড উচ্চতা থেকে আরো বাড়তে পারে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় এমন সতর্ক বার্তা দেন ইতালিয়ান কফি জায়ান্ট লাভাজ্জার চেয়ারম্যান জিউসেপ্পে লাভাজ্জা। তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবহনে বিঘ্নতা ও নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিধিমালা।’
লন্ডনের ফিউচার মার্কেটে মঙ্গলবার রোবাস্তা কফির দাম প্রতি টনে ৪ হাজার ৮৪৪ ডলারে পৌঁছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় মূলত বাড়তে শুরু করে কফির দাম।
জিউসেপ্পে লাভাজ্জা বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সুপার মার্কেটগুলোয় কফির দাম এরই মধ্যে চলতি বছর প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। আগামী বছর আরো ১০ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কফির দাম কমবে না তা মোটামুটি নিশ্চিত, বরং সামনের দিনগুলোয় এটি আরো ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে। কারণ কফি সরবরাহ চেইন চাপের মুখে রয়েছে।’
সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলোয় কফি সবচেয়ে ভালো জন্মায়। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলোয় এরই মধ্যে এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কফি উৎপাদন। ফলে এর সরবরাহ সংকটে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এ পণ্যের দাম বেড়েছে।
জিউসেপ্পে লাভাজ্জার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোবাস্তা দেশগুলোর উৎপাদনকে প্রভাবিত করেছে। যার সবচেয়ে বড় শিকার ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী দেশ। কাঁচামাল সংকটে লাভাজ্জার মতো কফি কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে মুনাফাও।
ভিয়েতনাম বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনে আগামী বছরগুলোয় ভিয়েতনামেও কফির উৎপাদন কমবে। রোবাস্তা কফি বিনের উৎপাদন কমে গেলে দাম বাড়তির দিকেই থাকবে।
এপ্রিল থেকে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এমনকি এ অঞ্চলগুলোয় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তাপপ্রবাহ ছাড়াও ভিয়েতনামে কফি চাষ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে, যা প্রভাব ফেলছে মূল্যবৃদ্ধিতে। সম্প্রতি দেশটির কৃষকরা কফির পরিবর্তে ডুরিয়ান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ডুরিয়ান চাষের দিকে কৃষক বেশি মনোযোগ দেয়ায় কফি চাষের জমির পরিমাণও কমেছে।
ডুরিয়ান সাধারণত কাঁটাযুক্ত আবরণ, মিষ্টি স্বাদ ও তীব্র গন্ধের জন্য পরিচিত একটি ফল। সম্প্রতি এটি চীনে খুব জনপ্রিয়। গত বছর চীনে ২ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের ডুরিয়ান রফতানি করেছে ভিয়েতনাম, যা আগের বছরের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। এছাড়া সামনের বছরগুলোয় এটি আরো জনপ্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জিউসেপ্পে লাভাজ্জা যোগ করেন, উচ্চ শিপিং খরচও কফির দাম বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে লোহিত সাগরে হুথিদের আক্রমণ এড়াতে জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচও বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে কফি কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।(সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস)
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন