এই মুহূর্তে ভারতের গাড়ির বাজার দখলের হিসেবে হুন্ডাই রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, মারুতি সুজুকির পরেই। সম্প্রতি হুন্ডাই মোটরসের গ্রুপ এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান ইউইসুন চুঙ্গের ভারত সফরের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির দীর্ঘকালীন মোবিলিটি স্ট্র্যাটাজি পুঙ্খানুপুঙ্খ চুলচেরা বিশ্লেষণ। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে এক নামী সংবাদপত্রে ইঙ্গিত মিলেছিল, হুন্ডাই ভারতের শেয়ার বাজারে নাম নথিভুক্ত করতে চলেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার এই গাড়ি কোম্পানি ড্রাফ্ট জমা দিয়েছে সেবির কাছে। জানা গেছে, হুন্ডাই মোটরস ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, ভারতে তাদের ইউনিটের ১৭.৫০ শতাংশ স্টেক ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও হিসেবে আনতে চায়। এই ব্যবস্থায় তারা ২.৫০ বিলিয়ন থেকে ৩ বিলিয়ন তুলতে আগ্রহী। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আইপিওতে হুন্ডাই ১৪.২ কোটি শেয়ার বিক্রি করতে আগ্রহী, যার প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালু হবে ১০ টাকা।
ব্যপারটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, দেখে নেওয়া যাক। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ঠিকঠাক থাকল ২০২৪ সালেই আসতে চলেছে এই আইপিও যা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও হতে চলেছে এবং এর পরিধি ভারতীয় জীবনবিমার আই.পি.ও কেও ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, প্রায় দু’দশক পর কোনও গাড়ি কোম্পানি ভারতের শেয়ার বাজারে তাদের নাম নথিভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দেশের একমাত্র গাড়িনির্মাতা কোম্পানি হিসেবে ২০০৩ সালে শেয়ার বাজারে নাম নথিভুক্ত করেছিল মারুতি সুজুকি। হুন্ডাইয়ের এই আইপিও বাজারে এলে তা হবে দেশের শেয়ার বাজারে প্রথম বিদেশি গাড়ি প্রস্তুতকারক কোনও কোম্পানির নথিভুক্তকরণ। হুন্ডাই আইপিও কে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কগুলো, যেমন কোটাক মাহিন্দ্রা, এইচএসবিসি, সিটিব্যাঙ্ক, মরগ্যান স্ট্যানলি বা জে পি মর্গ্যানের মতো সংস্থার সাহায্য করতে পারে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এবার দেখে নেওয়া যাক, ভারতে গাড়ির বাজারে হুন্ডাইয়ের অবস্থাটা এই মুহূর্তে কোথায় দাড়িয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, হুন্ডাই একমাত্র বিদেশি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা, যারা ভারতে তাদের ভিত শক্ত করতে পেরেছে। মারুতি সুজুকির সঙ্গে বেশ কয়েকবছর রীতিমতো লড়াই চালাচ্ছে তারা। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৯৮ সালে ‘সান্ট্রো’ মডেলের মাধ্যমে এই উপমহাদেশে তাদের আত্মপ্রকাশ। তখন থেকেই লড়াই জারি রেখে সংস্থাটি বর্তমানে ভারতের গাড়ির বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশের ওপর নিজেদের দখল রেখেছে। হিসেব বলছে, গত বেশ কয়েক মাস যাবৎ প্রতি মাসে গড়ে ৬০ হাজার গাড়ি তৈরি করছে এদেশে। শুধু তাই নয়,২০২৪ এর মে মাসে এদেশে তাদের গাড়ি বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১.১৩ শতাংশ। বিদেশে রপ্তানির অঙ্কটাও চমকে দেওয়ার মতো, কারণ এখানে বৃদ্ধি ঘটেছে প্রায় ৩১ শতাংশ, সংখ্যার হিসেবে প্রায় ১৪ হাজার ইউনিট। হুন্ডাই মোটরসের তরফে আরও বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ একটি কারখানা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকা সত্ত্বেও মে মাসে তারা এই পারফরমেন্সে সক্ষম হয়েছে।
সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে, এসইউভি সেগমেন্টে গত মাসে আভ্যন্তরীণ বাজারের প্রায় ৬৭ শতাংশই তাদের দখলে। গ্রামাঞ্চলেও হুন্ডাই ভাল সাফল্য পাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। ২০২৪–এর মে মাসে গ্রামাঞ্চলে গাড়ির বাজারের প্রায় ২০.১ শতাংশ হুন্ডাইয়ের দখলে।
চলতি বছরের এপ্রিলে হুন্ডাই জানিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা পাঁচটি নতুন ইভি বাজারে আনবে। হুন্ডাই মোটরস ইন্ডিয়া ও এর সিস্টার করসার্ন ‘কিয়া’ ইতিমধ্যেই এক্সাইড এনার্জি সলিউশনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যার উদ্দেশ্য স্থানীয়ভাবে ইভি–র ব্যাটারি তৈরি করা। ইতিমধ্যেই তারা জানিয়েছে, তামিলনাড়ু কারখানাকে আরও উন্নত করতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে। কোনও সন্দেহ নেই, দেশের অন্যতম বড় ইভি প্রস্তুতকারক সংস্থা হিসেবে হুন্ডাই শিগগিরই উঠে আসতে চলেছে।
ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি
ট্যাগঃ
মন্তব্য করুন