আইএমএফের ঋণের শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া – The Finance BD
 ঢাকা     শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

আইএমএফের ঋণের শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • ১১/০৫/২০২৪

অর্থনীতি ডেস্ক: আইএমএফের ঋণের শর্ত বাস্তবায়নে ব্যাংক ঋণের স্মার্ট সুদহার তুলে নিয়ে তা পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে ডলারের দামও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা রপ্তানি-রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও তারল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাগে আনা যাবে।
যদিও এমন উদ্যোগের ফলে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ফলে সব ছাপিয়ে আলোচনার নতুন খোরাক- ডলারের দাম বৃদ্ধি ও বাজারভিত্তিক ব্যাংকের নতুন সুদহার।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের ‘আউট অব বক্স থিওরি’ কাজে আসেনি। বরং, দীর্ঘদিন ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের ঘরে বেঁধে রাখার ফলে অর্থ-বাণিজ্যের নানা সূচক ফুলে-ফেঁপে উঠে। সেই সঙ্গে অস্বস্তি ছিল স্মার্ট পদ্ধতির সুদহারেও। অবশেষে পুরোপুরি বাজারের ওপরই ভরসা রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
স্মার্ট সুদহার তুলে নেয়ার ফলে এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই ঠিক করে দেবে আমানত ও ঋণের সুদহার। এর মূল উদ্দেশ্য, চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা। যার ফলশ্রুতিতে বিনিময় হারের পদ্ধতি ক্রলিং পেগ ধরে বাড়ানো হয়েছে ডলারের দামও।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এগুলো সুচিন্তিতভাবে করা হচ্ছে না। আমরা ব্যাংকিং সেক্টরে অনেক অস্থিরতা দেখতে পাচ্ছি। সেখানে যদি একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা অসুবিধায় পরে তবে সে তো ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে না।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, ডলার-টাকা রেটটা কিন্তু পরো বাজারে ছাড়া হয়নি। এটা একটা হাইব্রিড জিনিস। ওনারা (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) মনে হয় আপারে বা লোয়ারে কতদূর যায় সেটা দেখতে চাচ্ছেন। অর্থাৎ, প্রাইস ডিসকাভারি প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছি, এর মানে হলো সামনে ফুল মার্কেট রিভেন্ডারি চলে আসবে।
যদিও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তার দাবি, এর ফলে সাময়িক চাপ বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল আসবে। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি মনে করি, এটা আরও এক থেকে দেড় বছর আগে করা উচিত ছিল। তবে এটা অবশ্যই শর্ট টার্মে আমাদের একটা ধাক্কা দেবে, আমাদের কম্পিটিশনের দিকে নিয়ে যাবে- সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু মধ্যমেয়াদে আমাদের অর্থনীতির জন্য এটা ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না।

ক্যাটাগরিঃ অর্থনীতি

ট্যাগঃ

মন্তব্য করুন

Leave a Reply




Contact Us